কলকাতা

‘অশান্তি করলে সোজা বহিষ্কার’, দলীয় কর্মীদের কড়া হুঁশিয়ারি শমীকের

দলের পতাকা হাতে নিয়ে কেউ যদি ভাঙচুর বা গোলমালে জড়িয়ে পড়েন, তবে তাঁকে সরাসরি দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

Truth of Bengal: বাংলার মসনদে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর এবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া অবস্থান নিল ভারতীয় জনতা পার্টি। ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে দলীয় কর্মীদের স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার বিধাননগরের দলীয় কার্যালয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর তিনি সাফ জানিয়ে দেন, রাজ্যে কোনও ধরনের অশান্তি বা হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। দলের পতাকা হাতে নিয়ে কেউ যদি ভাঙচুর বা গোলমালে জড়িয়ে পড়েন, তবে তাঁকে সরাসরি দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

সোমবারের ফল ঘোষণায় ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি। এই বিপুল জয়ের পর মঙ্গলবার সকালেই রাজ্যবাসীকে ধন্যবাদ জানান শমীক ভট্টাচার্য। বিশেষ করে যে পরিযায়ী শ্রমিকরা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে ভিন রাজ্য থেকে এসে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তবে জয়ের উদযাপনের আবহে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে কর্মীদের অত্যন্ত সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সভাপতির কথায়, “বাংলার মানুষ শান্তির জন্যই বিজেপিকে বেছে নিয়েছেন। আমাদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। জয়ের আনন্দে কাউকে আঘাত করবেন না বা কারও ভাবাবেগে চোট দেবেন না।”

শমীক ভট্টাচার্য এদিন রাজ্য প্রশাসনের বর্তমান দায়িত্বে থাকা মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালার কাছেও বিশেষ আর্জি জানিয়েছেন। তিনি অনুরোধ করেন, কোথাও কোনও হিংসার ঘটনা ঘটলে প্রশাসন যেন রাজনীতির রং না দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেয়। গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত যে উন্নয়নের স্বপ্ন বিজেপি দেখেছে, তা সফল করতে শান্তি বজায় রাখা যে প্রাথমিক শর্ত, তা বারবার মনে করিয়ে দেন তিনি।

বিধাননগরের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকেরাও। সূত্রের খবর, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী অশান্তির যে স্মৃতি রাজ্যবাসীর মনে রয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি যেন কোনওভাবেই না হয়, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অত্যন্ত সজাগ। দলের প্রতিটি স্তরে ইতিমধ্যে শান্তি বজায় রাখার বার্তা পাঠানো হয়েছে। সকল রাজ্যবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন নতুন সরকারের প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির।

Related Articles