ভোটের আগের দিন ‘ব্ল্যাকআউট’! স্ট্রংরুমের সিসিটিভি বিভ্রাটে রণক্ষেত্র জঙ্গিপুর
যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে কারচুপি? গণনার আগে বিস্ফোরক অভিযোগ বিরোধীদের
কল্যাণ বিশ্বাস, মুর্শিদাবাদ: ভোট গণনার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে রবিবার মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর গভর্নমেন্ট পলিটেকনিক কলেজ চত্বরকে ঘিরে তৈরি হল চরম রহস্য এবং উত্তেজনা। স্ট্রংরুমে নজরদারির দায়িত্বে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা হঠাৎই কয়েক মিনিটের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল গণনাকেন্দ্রের বাইরে। কারচুপির আশঙ্কায় ক্ষোভে ফেটে পড়লেন সেখানে উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এজেন্টরা। গণনার আগের দিন এই ঘটনা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুর নাগাদ হঠাৎই স্ট্রংরুমের বেশ কিছু সিসিটিভি ক্যামেরার ডিসপ্লে বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি নজরে আসতেই বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মী ও এজেন্টরা প্রতিবাদে সরব হন। তাঁদের বিস্ফোরক অভিযোগ, ব্যালট বক্স বা ইভিএমের সঙ্গে কারচুপি করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই ‘যান্ত্রিক গোলযোগ’ ঘটানো হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে কলেজের গেটের সামনে ভিড় বাড়ে এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছান জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও বিশাল পুলিশ বাহিনী। উত্তেজনা প্রশমিত করতে বিক্ষোভকারী এজেন্টদের প্রতিনিধিদের আলোচনার জন্য ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রশাসনের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে তাঁরা স্ট্রংরুমের বাইরের নিরাপত্তা বলয় পরিদর্শন করেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, কোনও ষড়যন্ত্র নেই, স্রেফ কারিগরি ত্রুটির কারণেই সাময়িকভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। তবে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি বলেই আশ্বস্ত করেছেন আধিকারিকরা। দীর্ঘ আলোচনার পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। উল্লেখ্য, এই জঙ্গিপুর গভর্নমেন্ট পলিটেকনিক কলেজেই মোট ৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গণনা হওয়ার কথা।
ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফে সেখানে সমস্ত প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে গণনার ঠিক আগের দিন এই সিসিটিভি বিকল হওয়ার ঘটনা বিরোধীদের মনে সন্দেহের বীজ বুনে দিয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বর্তমানে সেখানে পুলিশি টহল ও নজরদারি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে এই ‘সন্দেহ’ কি গণনার দিন কোনও নতুন মোড় নেবে? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক মহলে।






