দেশ

বাংলা-সহ দেশের ১৭টি রাজ্যে ভয়াবহ জলসঙ্কটের অশনিসংকেত

দেশের ২৮টি রাজ্য ও আটটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে বাংলা-সহ ১৭টি রাজ্য ‘হাই রিস্ক জোন’-এ রয়েছে।

Truth of Bengal: ভয়াবহ জলসঙ্কটের দিকে এগোচ্ছে বাংলা-সহ দেশের ১৭টি রাজ্য। এমনই উদ্বেগজনক ইঙ্গিত মিলেছে অ্যাকোয়াডাক্ট ওয়াটার রিস্ক অ্যাটলাস–এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের যে ৩৮টি শহর অতি উচ্চ জলসঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে, তার মধ্যে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির নামও রয়েছে। জানুয়ারি শেষ হওয়ার আগেই গরমের দাপট টের পাওয়া যাচ্ছে। ক্যালেন্ডারকে উপেক্ষা করেই মধ্য মাঘে কলকাতার রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দেড় ডিগ্রি বেড়েছে। আবহবিদরা আগেই সতর্ক করেছিলেন, প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ জলতলের প্রভাবে (এল নিনো) এ বছর ভারতীয় উপমহাদেশে তীব্র গরম পড়তে পারে। পাশাপাশি বৃষ্টিপাত কম হওয়ার আশঙ্কাও প্রবল। এই পরিস্থিতিতেই জলসঙ্কট নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াল অ্যাকোয়াডাক্ট ওয়াটার রিস্ক অ্যাটলাসের রিপোর্ট। সেখানে জানানো হয়েছে, দেশের ২৮টি রাজ্য ও আটটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে বাংলা-সহ ১৭টি রাজ্য ‘হাই রিস্ক জোন’-এ রয়েছে।

এই তালিকায় রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, ছত্তিশগড়, বিহার, ওডিশা, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তেলঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং কেরালা। রাষ্ট্রপুঞ্জ সম্প্রতি এই পরিস্থিতিকে ‘গ্লোবাল ওয়াটার ব্যাঙ্করাপ্টসি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, ভূগর্ভস্থ জলের অবৈজ্ঞানিক ব্যবহার এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপের ফলে বিশ্বের বহু জায়গায় পানীয় জলের ভাণ্ডার দ্রুত কমে আসছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান, আফগানিস্তানের কাবুল এবং ভারতের চেন্নাই ইতিমধ্যেই অন্তত একদিনের জন্য ‘ডে জিরো’ বা জলহীন দিনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের অর্ধেকের বেশি বড় শহর এই মুহূর্তে তীব্র জলসঙ্কটে ভুগছে। দিল্লি, বেজিং, নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, লন্ডন, রিও ডি জেনেইরো, জাকার্তা ও ব্যাঙ্কক—সবই সেই তালিকায় রয়েছে। এই শহরগুলোতে মোট বাস করেন ১১০ কোটিরও বেশি মানুষ। ভারতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি গঙ্গা-যমুনা দোয়াব অঞ্চল তথা গাঙ্গেয় অববাহিকায়।

রিপোর্ট অনুযায়ী, এই এলাকায় দেশের ৪৫ শতাংশ মানুষের বাস এবং এখান থেকেই আসে দেশের প্রায় ৪৪ শতাংশ জিডিপি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত জল উত্তোলন ও জলবায়ু পরিবর্তনের যৌথ প্রভাবে আগামী কয়েক মাসে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। রিপোর্টে সতর্ক করা হয়েছে, যদি এ বছরও ফেব্রুয়ারি থেকেই তাপপ্রবাহ শুরু হয় এবং বর্ষা দুর্বল থাকে, তাহলে জুন পর্যন্ত পানীয় জলের চাহিদা আকাশছোঁয়া হতে পারে। ফলে ভূগর্ভস্থ জলস্তরের ওপর চাপ আরও বাড়বে।

Related Articles