ব্রিটিশ আমলের স্মৃতি নিয়ে পর্যটকদের মন কাড়ছে কার্শিয়াং-এর চিমনি গ্রাম
শোনা যায়, ব্রিটিশ আমলে এখানে বড়ো চিমনির মতো কাঠামো ছিল যার থেকে গ্রামের নামকরণ হয় চিমনি।
Truth of Bengal: দার্জিলিং জেলার কার্শিয়াং মহকুমার এক নিরিবিলি কোণে অবস্থিত চিমনি গ্রাম। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর অফবিট অচেনা পর্যটন কেন্দ্রে। প্রকৃতির সান্নিধ্যে দুদণ্ড শান্তিতে কাটানোর নির্ভেজাল ছুটি কাটানোর আদর্শ ঠিকানা হল চিমনি। ভিড় ভাট্টা এড়িয়ে অনিন্দ্য সুন্দর এই প্রাকৃতিক পরিবেশে কয়েক দিন ছুটি কাটাতে দারুণ লাগবে। পাহাড়, সবুজ জঙ্গল, কুয়াশা ঢাকা উপত্যকা, পাহাড়ি গ্রাম্য জীবনের সহজ সরল সাদামাঠা জীবনযাপনের মেলবন্ধনে চিমনি অপরূপ। শোনা যায়, ব্রিটিশ আমলে এখানে বড়ো চিমনির মতো কাঠামো ছিল যার থেকে গ্রামের নামকরণ হয় চিমনি। বর্তমানে একটা ইটরঙা চিমনির আকারের কাঠামো আছে। চিমনি নামের সঙ্গে জড়িয়ে ইতিহাসের স্মৃতি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় চিমনি ছিল ব্রিটিশ সেনার ঘাঁটি। সে সময় ব্রিটিশ সরকার ২৪ ফুট উঁচু চিমনি তৈরি করেছিল।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর চিমনি গ্রামের চারিদিকে ঘন সবুজ পাহাড়, পাইন, ওক বনের সারি, দূরে আপন ছন্দে ছলাৎছলাৎ শব্দ করে বয়ে চলেছে ঝরনা, সব মিলিয়ে এক শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ অসাধারণ। চিমনি ট্রেকারদের পছন্দের জায়গা কারণ আশপাশে একাধিক ট্রেকিং রুট রয়েছে। এসব রুট বনভূমি ও পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথের মধ্যে দিয়ে গেছে। নানান প্রজাতির পাখির কলরবে মুখরিত চিমনি গ্রাম। চিত্রসাংবাদিক ও পাখিপ্রেমীদের স্বর্গরাজ্য হল চিমনি। পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র চিমনিতে থাকার জন্য রয়েছে হোম স্টে। স্থানীয় খাবারের স্বাদ ও পাহাড়ি জীবনযাত্রা চাক্ষুষ করার সুযোগ মিলবে।
কার্শিয়াং থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চিমনি গ্রাম থেকে ঘুরে দেখা যায় বাগোরা, চটকপুর, ডাউহিল ডিয়ার পার্ক, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস মিউজিয়াম, সিঙ্গেল চা বাগান, মন্টেভিয়ট চা বাগান, মকাইবাড়ি চা বাগান, সেন্ট পলসিক গির্জা, জুমা মসজিদ, বৌদ্ধ গুম্ফা, গিদ্দা পাহাড় দুর্গামাতা মন্দির, জগদীশ মন্দির, আম্বোতিয়া শিব মন্দির।






