শ্রীরূপার ঝাঁপ নেমেছে চিরতরে, সিনেমা হল নয়, এটা এক সময়ের বিদায়
পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি শহরের বুকে আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে এক নিঃসঙ্গ কাঠামো -শ্রীরূপা।
Truth of Bengal: একটা সময় ছিল, যখন সিনেমা দেখতে যাওয়াটা ছিল একটা উৎসবের মতো। প্রণয়ী যুগল জুটিতে কিংবা দল বেঁধে বন্ধুরা যাওয়া হত সিনেমা দেখতে। বাইরে থেকে আত্মীয়রা বেড়াতে এলেও একটা দিন সন্ধেবেলা সিনেমা দেখতে যাওয়ার জন্য তুলে রাখা থাকত। কিন্তু.. সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখার সেই আকর্ষণ কি অনেকটাই ফিকে? ডিজিটাল মাধ্যমে ফিল্ম দেখাটা সহজলভ্য হয়ে যাওয়াই কি তার কারণ?(Kanthi)
[আরও পড়ুনঃ Assam: ভুয়ো বিল পাশ করানোতে চাপ দেওয়ায় অসমে আত্মঘাতী মহিলা সরকারি আধিকারিক]
পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি (Kanthi) শহরের বুকে আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে এক নিঃসঙ্গ কাঠামো -শ্রীরূপা। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে, যেন কোনো পরিত্যক্ত কারখানা। অথচ একসময় এই সিনেমা হল ঘিরেই তৈরি হয়েছিল কাঁথি শহরের সাংস্কৃতিক মঞ্চ, আবেগ, প্রেম, বন্ধুত্ব, আর সিনেমার প্রতি উন্মাদনা। আজ তার গেটের সামনে বড় তালা, দেয়ালের ফাঁক গলে বেরিয়ে এসেছে বটগাছের শিকড়। সিমেন্টের আস্তরণ ফেটে, রং চটে গিয়ে, ছেঁড়া পোস্টারগুলো যেন হাহাকার করছে- “আমাদের আর কেউ দেখতে আসে না।”
ভেতরে পড়ে থাকা ভাঙা চেয়ার, ছেঁড়া পর্দা, ছত্রাক ধরা দেওয়াল, জমে থাকা আবর্জনা – সব মিলিয়ে শ্রীরূপা আজ শুধুই এক মৃতপ্রায় স্মৃতি। এই শ্রীরূপা সিনেমা হলেই একদিন সকাল থেকে লাইন পড়ত টিকিটের জন্য। নতুন বাংলা ছবি, হিন্দি ব্লকবাস্টার, কখনও দক্ষিণী মারদাঙ্গা অ্যাকশন – সব ছবি নিয়েই উত্তেজনা থাকত দর্শকদের মধ্যে। কিন্তু এখন টিকিট কাউন্টারের শাটার নামানো। সেই কাউন্টার, যেখানে হাত বাড়িয়ে টিকিট দিতেন এক হিসাবরক্ষক- আজ তিনি নিজেই স্মৃতির ভারে নুয়ে পড়েছেন। শ্রীরূপার প্রাক্তন হিসাবরক্ষক গৌরীশংকর পাত্র বললেন, “একটা সময় ছিল, যখন দিনের একটাও শো ফাঁকা যেত না। এখন সেই হল বন্ধ-এই ভেবে বুকের ভেতরটা খালি হয়ে যায়।”(Kanthi)
[লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal/]
একটা সময় ছিল যখন শ্রীরূপা সিনেমা হলে সকাল থেকেই মানুষের লাইন পড়ত। ‘সাবাশ বাঙালি’, ‘ঘরে বাইরে’, ‘সিনেমাওয়ালা’, ‘অগ্নিপথ’ থেকে শুরু করে ‘বাহুবলী’-র মতো ছবি দেখতে লোকে ঢল নামাত। কিন্তু সেই কোলাহলকে আজ গ্রাস করেছে ডিজিটাল যুগ। এখন টিভিতেই শুধু নয়, মোবাইলেই সিনেমা, হাতে হাতে ওটিটি অ্যাপ। আর সেই তালে তাল না মেলাতে পেরে একে একে বন্ধ হয়েছে শহরের সব সিনেমা হল। শ্রীরূপা শেষতম, যার ঝাঁপ নেমেছে চিরদিনের জন্য। তবে পুরনো স্মৃতি আজও রয়ে গেছে অনেকের মনে। সেই স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে আবেগ চাপতে পারেননি সিনেমা হলের পাশের এক দোকানদার। স্থানীয় দোকানদার রনজিৎ জানা বলেন, “এই সিনেমা হলটা সংসারের মতো ছিল। প্রতিদিন কত লোকজন আসত। এখন চারপাশটা ফাঁকা লাগে-খুব কষ্ট হয়।”(Kanthi)
শ্রীরূপা সিনেমা হল এখন শুধুই এক স্মৃতির নাম। এক সময়ের আনন্দ, উল্লাস, প্রেক্ষাগৃহের গন্ধ – সবই আজ শ্যাওলাধরা, ভোঁতা হয়ে গেছে বন্ধ শাটারের ওপারে। শ্রীরূপা সিনেমা হল হয়ত আর কখনও খুলবে না। কারণ এই সময়টাই বদলে গিয়েছে। এটা শুধু একটা সিনেমা হল বন্ধ হওয়ার গল্প নয় – এটা এক প্রজন্মের বিনোদন অভ্যাসের বদল, একটা সময়ের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য, একটা স্মৃতির মৃত্যুর দলিল।






