বঙ্গে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, ১২ জেলায় ‘কমলা সতর্কতা’
শুক্র ও শনিবার তীব্র ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা
চৈত্র সেলের মুখে কার্যত মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্র ও শনিবার রাজ্যজুড়ে ধেয়ে আসতে পারে তীব্র ঝড়-বৃষ্টি। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে অন্তত ১২টি জেলায় জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা। আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্প এবং বিপরীতমুখী বাতাসের সংঘাতের ফলে দক্ষিণবঙ্গে তৈরি হতে চলেছে একটি শক্তিশালী ‘স্কোয়াল ফ্রন্ট’।
আবহাওয়া দফতরের তরফ থেকে শুক্রবার ও শনিবার হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের কলকাতা, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং হুগলি দুর্যোগের মাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকতে পারে। এছাড়া উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদাতেও সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। বাকি জেলাগুলোতে হলুদ সতর্কতা অর্থাৎ ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যখন দুই বিপরীতধর্মী ও বিপরীতমুখী বাতাস একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে মিলিত হয়, তখন সেখানে ‘কনভারজেন্স জ়োন’ তৈরি হয়। এর ফলে আকাশে ইংরেজি উল্টো ‘L’ অক্ষরের মতো পুরু কিউমুলোনিম্বাস মেঘের স্তর তৈরি হয়। মেঘের এই বিশেষ বিন্যাসের কারণেই প্রবল বজ্রপাতসহ ঝড় ও বৃষ্টির সৃষ্টি হয়। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে শনিবার পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, বর্ধমান ও হুগলিতে ঝড়ের গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত। কলকাতাসহ অন্যান্য জেলায় ৫০–৬০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। উত্তরের পাহাড়ী তিন জেলা— দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কালিম্পংয়ে ভারী বৃষ্টির (৭–১১ সেমি) সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর কলকাতায় এক ঘণ্টার প্রবল বৃষ্টিতে যে ‘ক্লাউডবার্স্ট’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, এবারের পূর্বাভাসে তেমন সরাসরি কোনো উল্লেখ না থাকলেও ঝড়ের তীব্রতা নিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সপ্তাহান্তের এই ভোলবদল চৈত্র সেলের বাজারকে কতটা প্রভাবিত করবে, এখন সেটাই দেখার।






