রোদে দাঁড় করিয়ে রাখা হলো শিক্ষকদের! প্রতিবাদে গর্জে উঠল পড়ুয়ারা
অভিযোগ উঠেছে, শনিবার সকালে শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্কুলে পৌঁছলে পরিচালন কমিটির সভাপতি নিমাই চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি স্কুলের মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন।
Truth Of Bengal: পড়া না পারার জন্য শিক্ষকদের হাতে ছাত্রদের শাস্তি পাওয়ার ছবি চিরকালই চেনা। কিন্তু যখন সেই ছবিটা ঠিক উল্টো হয়ে যায় এবং ছাত্রদের প্রিয় শিক্ষকদের রোদে দাঁড় করিয়ে অপমান করা হয়, তখন তার ফলাফল যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে, তার সাক্ষী থাকল পুরুলিয়ার পুঞ্চা থানার বাগদা চন্দ্রকান্ত বিদ্যাপীঠ। বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (DA) দাবিতে গত ১৩ মার্চ রাজ্যজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন সরকারি কর্মচারীরা। সেই প্রতিবাদে শামিল হওয়ার অপরাধে শনিবার স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চরম লাঞ্ছনার শিকার হতে হলো স্কুল পরিচালন কমিটির হাতে।
অভিযোগ উঠেছে, শনিবার সকালে শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্কুলে পৌঁছলে পরিচালন কমিটির সভাপতি নিমাই চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি স্কুলের মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। রাজ্য সরকারের নির্দেশ অমান্য করে কেন শিক্ষকরা ধর্মঘটে যোগ দিয়েছেন, এই প্রশ্ন তুলে তাঁদের প্রচণ্ড রোদের মধ্যে স্কুলের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। দীর্ঘক্ষণ অপমানের ভার সহ্য করতে না পেরে এবং প্রখর রোদে অসুস্থ হয়ে পড়েন স্কুলের প্রধান শিক্ষক তপন গোপ। শিক্ষকদের এই অসহায় অবস্থা এবং প্রধান শিক্ষকের অসুস্থতা দেখেই ফেটে পড়ে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। নিজেদের শিক্ষকদের অপমানের বদলা নিতে তারা স্কুল গেটের সামনে এবং রাস্তায় বিক্ষোভে শামিল হয়।
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে ছাত্রছাত্রীরা পরিচালন কমিটির সভাপতিকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুঞ্চা থানার পুলিশ। ছাত্রদের মেজাজ বেগতিক দেখে সুযোগ বুঝে এলাকা ছাড়েন সভাপতি ও তাঁর অনুগামীরা। পরে প্রধান শিক্ষক সুস্থ হয়ে স্কুলে ফিরলে প্রায় দু’ঘণ্টা পর পঠনপাঠন শুরু হয়। প্রধান শিক্ষক ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিক্ষক স্বল্পতা সত্ত্বেও তারা সিলেবাস শেষ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ধর্মঘটের কারণে যেটুকু ক্ষতি হয়েছে, তা বাড়তি ক্লাসের মাধ্যমে মিটিয়ে দেওয়া হবে।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিমাই চক্রবর্তী দাবি করেছেন, কেন স্কুল বন্ধ ছিল সেই কৈফিয়ত চাইতেই তাঁরা বাধা দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষক তপন গোপ আক্ষেপের সুরে জানান, আগে থেকে জানিয়ে রাখা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দাপট দেখিয়ে তাঁদের অপমান করা হয়েছে, যা এই স্কুলের সংস্কৃতিতে আগে কখনও ছিল না। প্রিয় শিক্ষকদের পাশে দাঁড়িয়ে ছাত্র সৌমেন কারকের সাফ কথা, “স্যারদের কোনো দোষ নেই, ওদের এভাবে অপমান করা ঠিক হয়নি।” শিক্ষকদের প্রতি ছাত্রদের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা ও প্রতিবাদ এখন জেলাজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।






