রাজ্যের খবর

১০ মার্চের সুপ্রিম শুনানিই কি ঠিক করবে বাংলার ভোটের ভাগ্য? ঝুলে রয়েছে ৬০ লক্ষ নাম

মঙ্গলবার পর্যন্ত মাত্র ৪ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে, এখনও প্রায় ৫৬ লক্ষ ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

Truth Of Bengal: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে চললেও ভোটার তালিকা সংশোধনের জটিলতা কাটছে না। বিশেষ নিবিড় যাচাই বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়ার গেরোয় ঝুলে রয়েছে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য। একদিকে যখন নির্বাচন কমিশন ভোটের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, অন্যদিকে ১০ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের শুনানির দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।

কমিশন সূত্রে খবর, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্য়েই প্রায় ৬৩ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বর্তমানে ৬০,৬৭,৭৫০ জন ভোটারের নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ চলছে। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত মাত্র ৪ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে, ফলে এখনও প্রায় ৫৬ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এই বিশাল পরিমাণ আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। প্রতিবেশী রাজ্য বিহার ও ঝাড়খন্ড থেকে প্রায় ২,০২০ জন বিচারক এই কাজে সাহায্য করতে রাজ্যে আসছেন। তাঁদের যোগদানের পর কাজের গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী ১০ মার্চ সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে, যেখানে কমিশন তাদের অগ্রগতির খতিয়ান পেশ করবে।

প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেছে, মুর্শিদাবাদ ও মালদা জেলায় বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মালদায় মোট ভোটার ২৯,৮৬,২০৩ জন, যার মধ্যে ৮,২৮,০৮০ জন ভোটারের নাম এখনও চূড়ান্ত তালিকায় ওঠেনি। বিস্ময়কর তথ্য হলো, রাজ্যের মোট বিচারাধীন ভোটারের প্রায় অর্ধেকই মালদা জেলার বাসিন্দা।

নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যালোচনায় আজ ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। আগামী সপ্তাহে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যে আসতে পারে। তাঁরা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন। প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী, এই ধরনের সফরের পর সাধারণত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়। তবে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যের বর্তমান ৮০,৬৮১টি বুথের বিন্যাসে কোনো পরিবর্তন করা হবে না।

ভোটের নিরাপত্তায় কোনো খামতি রাখতে চাইছে না কমিশন। রাজ্যে মোট ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। ইতিমধ্যে প্রথম দফার ৪০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে পৌঁছে গেছে। দ্বিতীয় দফায় ছত্তিশগড় থেকে ১২ কোম্পানি সিআরপিএফ (CRPF) প্রথমে কলকাতায় আসবে। তাঁদের থাকার জন্য বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ চিহ্নিত করা হয়েছে।

রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়া এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে। ঝুলে থাকা লক্ষ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ এবং ভোটের চূড়ান্ত দিনক্ষণ কী হবে, তা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে ১০ মার্চ দেশের শীর্ষ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর।

Related Articles