খেলা

বিশ্বকাপ ফাইনালের দ্বারপ্রান্তে ভারত ব্যাটিং উজ্জ্বল, চিন্তার কারণ বোলিং

এই বিশ্বকাপে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ বেশ শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।

Truth Of Bengal: ২০২৬ টি–২০ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারত এখন ইতিহাস গড়ার একেবারে কাছাকাছি। ৮ মার্চ আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। তবে খেতাব লড়াইয়ের আগে ভারতীয় দলে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে বোলারদের অনিয়মিত পারফরম্যান্স।

ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা, সঞ্জু–ইশানের ঝলক

এই বিশ্বকাপে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ বেশ শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। যদিও অভিষেক শর্মা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি, তবু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলিতে বড় স্কোর গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে ভারত। বিশেষ করে সঞ্জু স্যামসন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করেছেন। টুর্নামেন্টে চার ম্যাচে তিনি ২০১ স্ট্রাইক রেটে ২৩২ রান করেছেন। অন্যদিকে ইশান কিসানও ছিলেন দারুণ ছন্দে। আট ম্যাচে ১৮৯ স্ট্রাইক রেটে তিনি করেছেন ২৬৩ রান, যা ভারতের ব্যাটিং শক্তিকে আরও মজবুত করেছে।

অধিনায়কের রান আছে, কিন্তু প্রশ্নও আছে

অভিষেক শর্মার ব্যাট এই বিশ্বকাপে একেবারেই ধারাবাহিক নয়। জিম্বাবোয়ের বিপক্ষে ৫৫ রান করলেও সাত ইনিংসে মোটে ৮৯ রান করতে পেরেছেন তিনি। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব আট ম্যাচে ২৪২ রান করলেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তিনি দ্রুত আউট হয়ে দলের ওপর চাপ বাড়িয়েছেন। তাঁর স্ট্রাইক রেট নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে তিলক ভার্মাকে ব্যাটিং অর্ডারে নিচে নামানোর সিদ্ধান্তটি ভারতের জন্য কার্যকর হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৫ বলে ২৭ রান এবং সেমিফাইনালে মাত্র ৭ বলে ২১ রান করে তিনি ফিনিশারের ভূমিকায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন। অনেকের মতে, শেষদিকে ম্যাচ ঘোরানোর ক্ষেত্রে তিলক এখন ভারতের ট্রাম্প কার্ড।

অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে হার্দিক

হার্দিক পান্ডিয়া এই বিশ্বকাপে ব্যাট ও বল—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আট ম্যাচে ১৬৩ স্ট্রাইক রেটে তিনি করেছেন ১৯৯ রান। পাশাপাশি বোলিংয়েও নিয়েছেন ৮টি উইকেট।
তবে অক্ষর প্যাটেল এখনও প্রত্যাশামতো পারফরম্যান্স দিতে পারেননি।

বুমরাহ উজ্জ্বল, অন্যদের নিয়ে উদ্বেগ

ভারতের বোলিং বিভাগে সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এসেছে জসপ্রীত বুমরাহর কাছ থেকে। সাত ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি তিনি মাত্র ৬.৬২ ইকোনমি রেটে রান দিয়েছেন—যা বড় ম্যাচগুলিতে দলের জন্য দারুণ সহায়ক হয়েছে। তবে বরুণ চক্রবর্তী ও অর্শদীপ সিং প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। অর্শদীপ সাত ম্যাচে ৯টি উইকেট নিলেও তাঁর ইকোনমি রেট ৮.৫৩, যা উদ্বেগজনক। বিশেষ করে শক্তিশালী দলগুলির বিপক্ষে তিনি বেশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছেন। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার ওভারে ৫১ রান দিয়েছেন তিনি। মহম্মদ সিরাজ বেঞ্চে থাকা সত্ত্বেও অর্শদীপ সুযোগ পাচ্ছেন, যা নিয়েও আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বরুণ চক্রবর্তীকে ভারতের বড় ম্যাচ–উইনার হিসেবে ধরা হচ্ছিল। কিন্তু বাস্তবে তিনি ভক্তদের হতাশই করেছেন। বড় ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল বেশ খরুচে—ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে চার ওভারে ৬৪ রান দেন তিনি।