এসআইআর শুনানিতে এবার সপরিবারে তলব করা হল মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি টুটু বোসকে
বাংলার ফুটবল জগতের অন্যতম এই প্রধান ব্যক্তিত্বের পরিবারকে শুনানিতে ডাকার ঘটনায় শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক তরজা।
Truth of Bengal: রাজ্যজুড়ে চলছে এসআইআর শুনানি। এবার নির্বাচন কমিশনের এই বিশেষ শুনানিতে তলব করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত শিল্পপতি তথা মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি স্বপনসাধন বোসকে। একা টুটু বোস নন, তাঁর পুত্র তথা ক্লাবের বর্তমান সচিব সৃঞ্জয় বোসসহ গোটা পরিবারকেই আগামী ১৯ জানুয়ারি বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুলে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলার ফুটবল জগতের অন্যতম এই প্রধান ব্যক্তিত্বের পরিবারকে শুনানিতে ডাকার ঘটনায় শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক তরজা।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সরব হয়েছেন মোহনবাগান ক্লাবের সহ-সভাপতি তথা তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিযোগ করেছেন যে, বাংলার বিশিষ্টজনদের হেনস্তা করা হচ্ছে। কুণালবাবুর মতে, টুটু বোস বর্তমানে শারীরিকভবে অত্যন্ত অসুস্থ এবং হুইল চেয়ার ছাড়া তাঁর যাতায়াতের ক্ষমতা নেই। এমন একজন প্রবীণ ও সফল বাঙালি উদ্যোক্তাকে সপরিবার ডেকে পাঠিয়ে নির্বাচন কমিশন তাঁদের নাগরিকত্বের প্রমাণ চাইছে, যা অত্যন্ত অপমানজনক। এই ঘটনার জন্য তিনি সরাসরি বিজেপি ও কমিশনকে দায়ী করে এর পরিণাম নির্বাচনে দেখা যাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক অতীতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন থেকে শুরু করে খ্যাতনামা কবি জয় গোস্বামী কিংবা ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ শামির মতো ব্যক্তিত্বদেরও একইভাবে এসআইআর শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে। একের পর এক বিশিষ্ট বাঙালির কাছে নাগরিকত্বের প্রমাণ চেয়ে এহেন নোটিস পাঠানোর ঘটনাকে রাজ্য সরকার ‘অমানবিক’ এবং ‘অসংবেদনশীল’ বলে আখ্যা দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই এই ইস্যুতে কড়া আপত্তির কথা জানিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখেছেন। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও কমিশনের এই ধরণের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। গত সোমবারই বিভিন্ন খেলার প্রায় ১৫০ জন ক্রীড়াবিদ এই ধরণের হেনস্তার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, যারা মাঠের লড়াইয়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করছেন, তাঁদের এভাবে ডেকে অসম্মান করা বন্ধ হোক।






