দেশ

কেন সমকামী, যৌনকর্মীদের রক্তদানে নিষেধাজ্ঞা? সুপ্রিম কোর্টে কারণ জানাল কেন্দ্র

শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রের এই যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

Truth Of Bengal: সমকামী, রূপান্তরকামী এবং যৌনকর্মীদের রক্তদানে নিষেধাজ্ঞার নীতিকে সঠিক বলে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করল কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার শীর্ষ আদালতে এই মামলার শুনানিতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির হলফনামা পেশ করে কেন্দ্র জানায়, রক্তদাতার তালিকায় এই বিশেষ গোষ্ঠীগুলিকে অন্তর্ভুক্ত না করার পেছনে কোনও সামাজিক বৈষম্য নেই, বরং এটি একটি জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত সতর্কতা। সরকারের দাবি, রক্তদানের মাধ্যমে এইচআইভি (HIV) বা হেপাটাইটিসের মতো সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়া রুখতেই এই কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের নির্দেশিকার রেশ টেনেই কেন্দ্র স্পষ্ট করে দেয় যে, জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তার স্বার্থে এই নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখা জরুরি।

শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রের এই যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আদালত জানায়, দেশের লক্ষ লক্ষ গরিব মানুষ সরকারি হাসপাতালের বিনামূল্যের রক্তের ওপর নির্ভরশীল, যাদের বেসরকারি পরিষেবা নেওয়ার সামর্থ্য নেই। এমন পরিস্থিতিতে এই ধরনের বাধানিষেধ কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে আদালত। মামলাকারী রূপান্তরকামী অধিকার কর্মী থাংজম সান্টা সিং-এর আইনজীবী পাল্টা যুক্তি দেন যে, ঝুঁকি থাকে সুরক্ষা ছাড়া যৌন মিলনে, ব্যক্তির যৌন পরিচয়ে নয়। তিনি আরও বলেন, সংগৃহীত প্রতিটি রক্তই যখন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা হয়, তখন শুধুমাত্র পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে বাদ দেওয়া বৈষম্যমূলক।

কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য তাদের হলফনামায় বিভিন্ন গবেষণার তথ্য তুলে ধরে দাবি করেছে যে, সাধারণ মানুষের তুলনায় সমকামী, রূপান্তরকামী এবং যৌনকর্মীদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি ৬ থেকে ১৩ গুণ বেশি। এই বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই রক্তদানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় সরকার। ফলে ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এই বিতর্কিত নির্দেশিকা আপাতত বহাল থাকছে বলেই কেন্দ্রের বক্তব্যে পরিষ্কার হয়েছে। তবে আগামী দিনে সুপ্রিম কোর্ট এই সংবেদনশীল বিষয়ে কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সব পক্ষ।

Related Articles