সংসদে নজিরবিহীন সংঘাত! স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত
শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটির নোটিস দিয়ে ৫০ জনের বেশি সাংসদ সমর্থন জানালে প্রস্তাবটি গৃহীত হয় এবং আলোচনার জন্য ১০ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করা হয়।
Truth of Bengal: সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন টানাপোড়েনের সাক্ষী থাকল লোকসভা। দীর্ঘ টালবাহানা ও বিরোধীদের প্রবল বিক্ষোভের পর অবশেষে স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের আনা অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। মঙ্গলবার লোকসভার অধিবেশনে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং আইনি তর্কের মাঝেই এই প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য সবুজ সংকেত পায়।মঙ্গলবার কংগ্রেস সাংসদ মহম্মদ জাভেদ যখন অনাস্থা প্রস্তাবটি পেশ করেন, তখন স্পিকারের আসনে ছিলেন বিজেপির বর্ষীয়ান সাংসদ জগদম্বিকা পাল। প্রস্তাবটি পেশ হওয়ার সাথে সাথেই নিয়মাবলী নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, স্পিকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবল স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের থাকে। জগদম্বিকা পাল প্যানেল অফ চেয়ারম্যানের সদস্য হলেও তিনি স্থায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার নন। ফলে তাঁর এই প্রস্তাব গ্রহণ করার এক্তিয়ার আছে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বিতর্ক চলে। তবে সরকার পক্ষ দাবি করে, জগদম্বিকা পাল সেই মুহূর্তে সভার সভাপতিত্ব করার সম্পূর্ণ যোগ্য। শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটির নোটিস দিয়ে ৫০ জনের বেশি সাংসদ সমর্থন জানালে প্রস্তাবটি গৃহীত হয় এবং আলোচনার জন্য ১০ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করা হয়।
আলোচনার শুরুতেই সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন লোকসভার উপ-বিরোধী দলনেতা গৌরব গগৈ। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান স্পিকারের জমানায় বিরোধীদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। গগৈ সরাসরি দাবি করেন, খোদ বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে সংসদে বলতে দেওয়া হয় না এবং বারবার তাঁর মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। সংসদের ভেতরে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার প্রতিবাদেই এই অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
বিরোধী শিবিরের আক্রমণের পালটা জবাব দিতে দেরি করেনি মোদি সরকার। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ওম বিড়লার সংসদীয় অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বিরোধীরা গঠনমূলক আলোচনার বদলে স্পিকারের পদকে অপমান করছে। রিজিজু বিশেষভাবে বিরোধী দলনেতার একটি মন্তব্যের দিকে আঙুল তোলেন, যেখানে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন যে সংসদে কথা বলার জন্য তাঁর কারোর অনুমতির প্রয়োজন নেই। রিজিজুর দাবি, সংসদে স্পিকারের অনুমতি ছাড়া কথা বলা যায় না— এই সাধারণ নিয়মটি বিরোধী দলনেতা মানছেন না, যা আদতে সংসদীয় কাঠামোরই অবমাননা।






