সিলিন্ডার ছেড়ে এবার কি পাইপলাইন? রান্নার গ্যাস নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিশেষ পরামর্শ কেন্দ্রের
প্রাকৃতিক গ্যাস বা পিএনজি পরিকাঠামো প্রসারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
Truth of Bengal: এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের সম্ভাব্য ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই জ্বালানি সাশ্রয় এবং বিকল্প ব্যবস্থার ওপর জোর দিল কেন্দ্রীয় সরকার। সোমবার কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে পরিমিত গ্যাস ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাস বা পিএনজি পরিকাঠামো প্রসারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
&format=webp&quality=medium)
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানান যে বর্তমানে গার্হস্থ্য পিএনজি এবং সিএনজি গ্রাহকরা পূর্ণ মাত্রায় সরবরাহ পাচ্ছেন। বাণিজ্যিক এলপিজি বিক্রিও আংশিকভাবে স্বাভাবিক করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে কেন্দ্রীয় সরকার সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছে এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকরা যদি এলপিজি ছেড়ে পিএনজি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকে পড়েন তবে তা সামগ্রিক পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক হবে। মূলত বিশ্ব বাজারে সরবরাহের চাপ এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে এলপিজি-র প্রাপ্যতা নিয়ে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে তা মোকাবিলা করতেই এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। সরকারি আধিকারিকদের মতে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং ক্যাটারিং সার্ভিসের মতো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি পিএনজি ব্যবহার শুরু করে তবে সাধারণ গৃহস্থালির জন্য এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর চাপ অনেকটাই কমবে। এই লক্ষ্য পূরণে শহর এলাকায় পিএনজি সংযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। আগ্রহী গ্রাহকরা ইমেল, কাস্টমার পোর্টাল, কল সেন্টার বা সংশ্লিষ্ট সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে সংযোগের জন্য আবেদন করতে পারবেন। গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে অনেক কোম্পানি বিশেষ ছাড় বা ইনসেনটিভ দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে।

পরিকাঠামো গত উন্নয়নের গতি বাড়াতে কেন্দ্র থেকে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে বিশেষ চিঠি পাঠানো হয়েছে। গত ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখের ওই চিঠিতে রাজ্যগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে ঝুলে থাকা পাইপলাইন প্রকল্পের আবেদনগুলোকে দ্রুত অনুমতি দেওয়া হয়। এমনকি নতুন প্রস্তাবের ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অনুমোদন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া রাস্তা মেরামতির খরচ মকুব করা এবং পাইপলাইনের কাজের জন্য সময়সীমার বিধিনিষেধ শিথিল করারও আবেদন জানানো হয়েছে। কাজে গতি আনতে প্রতিটি রাজ্যে নোডাল অফিসার নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্র।যেসব এলাকায় পাইপলাইনের পরিকাঠামো রয়েছে সেখানে এলপিজি সিলিন্ডারের তুলনায় পিএনজি অনেক বেশি স্থিতিশীল এবং নিরাপদ বিকল্প হিসেবে গণ্য হয়। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এলপিজির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পিএনজির ব্যবহার বাড়ানোই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য। আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে গার্হস্থ্য ব্যবহারের জন্য এলপিজি সরবরাহ বজায় রাখা সরকারের অগ্রাধিকার। তবে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে জ্বালানির এই পরিবর্তন করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে বড় কোনো সংকট এড়ানো সহজ হবে।




