গ্যাসের লাইনেই শেষ নিঃশ্বাস! বারনালায় ২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে প্রাণ হারালেন ৬৬ বছরের বৃদ্ধ
সকাল আটটা নাগাদ তিনি একটি কুপন পান এবং দেখতে পান তাঁর নম্বর ২৫।
Truth Of Bengal: ভোর থেকে গ্যাসের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছিল লাইন। সেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ৬৬ বছরের এক বৃদ্ধ। পাঞ্জাবে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনা দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের সংকটের এক করুণ চিত্র তুলে ধরেছে। মৃত বৃদ্ধের নাম ভুষণ কুমার মিত্তল।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার পাঞ্জাবের বারনালা জেলায় এই ঘটনা ঘটে। জেলার শেহনা ব্লকে ভোরবেলায় গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড়ান ভুষণ। সকাল আটটা নাগাদ তিনি একটি কুপন পান এবং দেখতে পান তাঁর নম্বর ২৫। এর মধ্যেই লাইনে ভিড় ক্রমশ বাড়তে থাকে। প্রায় দু’ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পরও তিনি সিলিন্ডার পাননি। সকাল দশটা নাগাদ হঠাৎই তিনি লাইনে দাঁড়িয়েই ঢলে পড়েন।
ঘটনার পরপরই তাঁকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
দেশের বহু অঞ্চলের মতো পাঞ্জাবেও বর্তমানে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গ্যাস এজেন্সি এবং জেলা প্রশাসনের আশ্বাস সত্ত্বেও বারনালা এলাকায় পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। সিলিন্ডার পাওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন এখন সেখানে নিত্যদিনের দৃশ্য হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, দাম বাড়ার পরেও দেশজুড়ে কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগান। বাংলা-সহ গোটা দেশেই রান্নার গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। গ্যাস বুকিং করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। দেশের নানা প্রান্তে হোটেল-রেস্তরাঁও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত গ্যাস বুকিং এবং মজুত রোধ করতে বুকিংয়ের ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। অন্যদিকে, গ্যাসের খরচ বাঁচাতে ইনডাকশনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিন রান্নার যন্ত্রের ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে।
এদিকে শুক্রবার এনএক্সটি সম্মেলনে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৪০ কোটি ভারতবাসীর উপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। কোভিডের সময় যেমন আমরা একসঙ্গে লড়াই করেছি, তেমনই এই সংকটও কাটিয়ে উঠব। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যাতে নাগরিকদের সমস্যায় পড়তে না হয়, সে জন্য সরকার সরবরাহ ব্যবস্থার বাধা দূর করতে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”






