সুপ্রিম কোর্টে ইডির এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন! আইপ্যাক মামলায় রাজ্য সরকারের জোরালো সওয়াল
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী জবাব দেওয়ার জন্য কিছুটা অতিরিক্ত সময় চাইলে তার তীব্র বিরোধিতা করেন কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল।
Truth of Bengal: আইপ্যাক মামলার শুনানিতে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির এক্তিয়ার নিয়ে জোরালো সওয়াল করল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। রাজ্যের পক্ষ থেকে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী স্পষ্ট জানান যে এই মামলা করার কোনো আইনি অধিকারই নেই ইডির। তিনি আদালতের কাছে মামলার গ্রহণযোগ্যতা খতিয়ে দেখার জন্য বিশেষ শুনানির আর্জি জানান। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী জবাব দেওয়ার জন্য কিছুটা অতিরিক্ত সময় চাইলে তার তীব্র বিরোধিতা করেন কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল। তার মতে দুই সপ্তাহ আগেই হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছে এবং কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া মামলার শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন যে একজন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে হস্তক্ষেপ করা এবং পরবর্তীকালে আদালতে দেরি করা অত্যন্ত আশ্চর্যজনক।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গত ৮ জানুয়ারির একটি ঘটনা। ওইদিন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের অফিস এবং সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের বাসভবনে তল্লাশি অভিযানে নামে ইডি। সেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সেখান থেকে কিছু নথিপত্র এবং ফাইল নিজের হেফাজতে নিয়ে আসেন। সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন যে ওই নথিতে দলের নির্বাচনী রণকৌশলের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গোপন তথ্য রয়েছে যা ইডি ছিনতাই করার চেষ্টা করছিল। দলের স্বার্থেই তিনি সেই ফাইলগুলো সরিয়ে নিয়েছেন বলে জানান।
মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপের পরেই ইডির সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাত চরম আকার ধারণ করে। কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে বাধা দেওয়া এবং নথিপত্র সরিয়ে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টে মোট তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে শীর্ষ আদালতে সেই মামলাগুলোরই ধারাবাহিক শুনানি চলছে যেখানে ইডির তদন্ত করার আইনি বৈধতা এবং মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের বিষয়টি প্রধান বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।






