এয়ার ইন্ডিয়ার ১৯১টি বিমানেই যান্ত্রিক ত্রুটি! কঙ্কালসার চেহারা ফাঁস হতেই ১ কোটি টাকা জরিমানা ডিজিসিএ-র
এয়ার ইন্ডিয়ার এই চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় স্তম্ভিত দেশের বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ।
Truth of Bengal: বিমানের ফিটনেস বা ‘এয়ারওর্দিনেস সার্টিফিকেট’ নেই, অথচ সেই অবস্থাতেই আকাশপথে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে যাত্রীবাহী বিমান! টাটা গোষ্ঠীর মালিকানাধীন এয়ার ইন্ডিয়ার এই চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় স্তম্ভিত দেশের বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ। যাত্রীনিরাপত্তার সঙ্গে এমন ভয়ংকর আপস করার অভিযোগে এবার এয়ার ইন্ডিয়াকে ১ কোটি টাকা জরিমানা করল ডিরেক্টর জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন।
আমেদাবাদে বছরখানেক আগের সেই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার স্মৃতি আজও টাটকা, যেখানে প্রাণ হারিয়েছিলেন দু’শোর বেশি মানুষ। কিন্তু সেই ঘটনা থেকেও যে সংস্থা শিক্ষা নেয়নি, তা ডিজিসিএ-র অভ্যন্তরীণ তদন্তেই স্পষ্ট। জানা গিয়েছে, গত নভেম্বর মাসে পর পর দু’দিন কোনো বৈধ ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়াই এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ‘Airbus A320’ বিমান দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদের মধ্যে মোট আটবার উড়ান সম্পন্ন করেছে। অর্থাৎ, কয়েকশো যাত্রীর প্রাণকে কার্যত হাতের মুঠোয় নিয়ে ওড়ানো হয়েছে ওই বিমানটি।
নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি উড়ানের আগে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ এবং যান্ত্রিক সুস্থতার প্রমাণ হিসেবে ‘এয়ারওর্দিনেস সার্টিফিকেট’ থাকা বাধ্যতামূলক। এই শংসাপত্র না থাকার অর্থ হলো, বিমানটি ওড়ার জন্য কারিগরিভাবে উপযুক্ত ছিল না।সম্প্রতি ডিজিসিএ-র পেশ করা একটি রিপোর্টে এয়ার ইন্ডিয়ার কঙ্কালসার চেহারাটি আরও স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। ওই রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির নিরিখে দেশের অন্যান্য বিমান সংস্থার তুলনায় এয়ার ইন্ডিয়ার পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। সংস্থার ২৬৭টি বিমান পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, তার মধ্যে ১৯১টি বিমানেই (অর্থাৎ প্রায় ৭২ শতাংশ) কোনো না কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি রয়েছে।
যাত্রী নিরাপত্তার প্রশ্নে এয়ার ইন্ডিয়ার এই উদাসীনতা নিয়ে এখন সরব বিশেষজ্ঞ মহল। ১ কোটি টাকা জরিমানা এই বিশাল সংস্থার কাছে হয়তো সামান্য, কিন্তু যে প্রশ্নটি বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে তা হলো—পরপর ঘটে যাওয়া এই গাফিলতিগুলোর দায় কে নেবে? দ্রুত পরিকাঠামোগত উন্নতি না হলে আকাশপথে সাধারণ মানুষের ভরসা যে তলানিতে গিয়ে ঠেকবে, তা বলাই বাহুল্য।






