কপ্টার দেখেও ভরল না মাঠ, হতাশ করল হুমায়ুনের ‘ফ্লপ’ জনসভা
মূল জনসভার মাঠের অধিকাংশ চেয়ারই ছিল ফাঁকা
Truth Of Bengal: একের পর এক প্রার্থী ও হেভিওয়েট নেতারা ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ালেও, হেলিকপ্টার চড়ে ‘ভোটের মার্কেটিং’ শুরু করলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদের ডোমকল ও রেজিনগরে সভা করতে সাদা-সবুজ হেলিকপ্টারে চড়ে আকাশপথে পাড়ি দেন তিনি। তবে আকাশপথে জৌলুস দেখালেও মাটিতে কিন্তু জনসভার ছবিটা ছিল বেশ হতাশাজনক। হেলিকপ্টার দেখার জন্য হেলিপ্যাডে কিছু কচিকাঁচাদের ভিড় জমলেও, মূল জনসভার মাঠের অধিকাংশ চেয়ারই ছিল ফাঁকা।
ডোমকল ও রেজিনগরের এই দুই সভায় জনশূন্যতা দেখে স্পষ্টতই হতাশ হুমায়ুন কবীর। যদিও নিজের জেদ বজায় রেখে তিনি জানিয়েছেন, আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত এই হেলিকপ্টার ভাড়া করা থাকবে এবং তিনি মোট ৫০টি সভা করবেন। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও কটাক্ষ। বেলডাঙা থেকে ডোমকল কিংবা রেজিনগরের দূরত্ব যেখানে সড়কপথে সামান্য সময়ের পথ, সেখানেও কেন আকাশপথ বেছে নেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। বিশেষ করে, ২০ দিন ধরে এই বিপুল খরচসাপেক্ষ হেলিকপ্টার ভাড়ার উৎস নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও জোর চর্চা ও হাসাহাসি শুরু হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ এই ঘটনাকে ‘বিনোদনমূলক’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর দাবি, নিজের সভায় লোক হবে না বুঝেই হেলিকপ্টার দেখিয়ে মানুষের কৌতূহল উসকে ভিড় টানার অপচেষ্টা করছেন হুমায়ুন। কুণাল ঘোষ ব্যঙ্গাত্মক সুরে আরও বলেন, “পাশের পাড়ায় যাওয়ার জন্য যেভাবে হেলিকপ্টার ওড়াচ্ছেন, তাতে দেখতে হবে ভুল করে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের কোনো গ্রামে গিয়ে না নেমে পড়েন।”
উল্লেখ্য, হুমায়ুন কবীর এই হেলিকপ্টারকে সামনে রেখেই বিরোধীদের একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু জোটে সাড়া মেলা তো দূর, নিজের প্রচার সভাতেও মানুষের দেখা না মেলায় অস্বস্তিতে পড়েছেন এই ‘মিম-সঙ্গী’ নেতা। হেলিকপ্টার দেখিয়ে ভোটের বাজারে নিজেকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখার এই কৌশল শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দিহান রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।






