রাজ্যের খবর

শোল মাছ চাষ করে স্বনির্ভরতার পথ দেখাচ্ছেন মহিষাদলের বুদ্ধদেব

মাছ চাষের মাধ্যমে এলাকার অন্য যুবকদেরও স্বনির্ভর হওয়ার বার্তা দিচ্ছেন বুদ্ধদেব।

রঞ্জন মাইতি, মহিষাদল: মাছে-ভাতে বাঙালি। এই প্রবাদ যেন নতুন করে সত্যি করে দেখালেন পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলের যুবক বুদ্ধদেব মাইতি। বাড়ির সামনে অল্প পরিসরে সিমেন্টের ট্যাঙ্ক তৈরি করে শোল মাছ চাষ করে স্বনির্ভরতার পথ দেখাচ্ছেন তিনি। শুধু নিজে নয়, মাছ চাষের মাধ্যমে এলাকার অন্য যুবকদেরও স্বনির্ভর হওয়ার বার্তা দিচ্ছেন বুদ্ধদেব। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুকে অবস্থিত সতীর ৫১ পীঠের অন্যতম পীঠস্থান মা বর্গভীমা মন্দির। প্রতিদিন শোলমাছ দিয়ে ভোগ দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। ফলে জেলার বিভিন্ন বাজারে শোলমাছের চাহিদা যথেষ্ট। সেই চাহিদাকে সামনে রেখেই প্রায় এক বছর আগে মহিষাদলের ঘাগরা গ্রামের বাসিন্দা বুদ্ধদেব মাইতি বাড়ির সামনে চারটি সিমেন্টের ট্যাঙ্ক তৈরি করে আধুনিক পদ্ধতিতে শোল মাছের চারাপোনা চাষ শুরু করেন।

প্রথমে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে পাঁচ হাজার চারাপোনা এনে চাষ শুরু করেন তিনি। গত আট মাসে সেই চারাগুলি বড় হয়ে বর্তমানে প্রতিটি মাছের ওজন প্রায় দেড় থেকে দুই কেজির মধ্যে পৌঁছেছে।তমলুক, মহিষাদল, নন্দকুমার, হলদিয়া এবং সুতাহাটা-সহ জেলার বিভিন্ন বাজারে এই মাছের চাহিদা থাকায় বিক্রিতেও সমস্যা হচ্ছে না। বুদ্ধদেব বাবু জানান, চারাপোনা থেকে মাছ বড় করতে খরচ পড়ে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।বর্তমানে বাজারে শোলমাছ কেজি প্রতি প্রায় সাড়ে তিনশো টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে এই চাষ থেকেই ভালো আয়ের পথ তৈরি হয়েছে।চলতি বছরে তিনি আরও বড় পরিসরে চাষের পরিকল্পনা নিয়েছেন এবং ইতিমধ্যেই প্রায় বারো হাজার চারাপোনা এনে নতুন করে চাষ শুরু করেছেন।

তার এই উদ্যোগ দেখতে দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। বুদ্ধদেবের মতে, চাকরির পিছনে না ছুটে অল্প জায়গায় আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ বা কৃষিকাজ করলে সহজেই স্বনির্ভর হওয়া সম্ভব। তিনি অন্যান্য যুবক-যুবতীদেরও এই ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনে চাষের বিষয়ে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতির মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ আমেদ আলি জানান, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মৎস্যজীবীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে এবং অনেকেই সেই প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বনির্ভর হচ্ছেন।বুদ্ধদেব নিজের উদ্যোগে মাছ চাষ শুরু করেছেন, প্রশাসন তার পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে সরকারি সাহায্যও দেওয়া হবে। মহিষাদলের বিডিও বরুনাশীষ সরকার বলেন, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার যুবক-যুবতীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বনির্ভর হতে পারেন। এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও অনেককে অনুপ্রাণিত করবে বলেই তিনি মনে করেন।