রাজ্যের খবর

সরকারি জমিতে পাহাড়প্রমাণ খড় ও কাঠ! খাসপুর হাসপাতালের বেহাল ছবিতে সরব এলাকাবাসী

খাসপুরের এই পুরনো গ্রামীণ হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল আশপাশের প্রায় ২০ থেকে ২৫টি গ্রামের মানুষ।

বিশ্বদীপ নন্দী, বালুরঘাট: সরকারি হাসপাতাল না কি খড়ির দোকান! এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বালুরঘাট ব্লকের খাসপুর গ্রামীণ হাসপাতালকে ঘিরে। হাসপাতালের মূল চত্বর জুড়ে কাঁটা ঝুলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রমরমিয়ে চলছে খড় ও কাঠের ব্যবসা। পাহাড়প্রমাণ খড়, গাছের ডাল ও কাঠের গুঁড়িতে কার্যত দখল হয়ে গিয়েছে সরকারি হাসপাতালের একাংশ জমি। এমন ছবি দেখে হতবাক সাধারণ মানুষ ও রোগীর পরিজনেরা।

খাসপুরের এই পুরনো গ্রামীণ হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল আশপাশের প্রায় ২০ থেকে ২৫টি গ্রামের মানুষ। প্রতিদিন জরুরি চিকিৎসা, প্রসূতি পরিষেবা থেকে শুরু করে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য ভরসা এই হাসপাতালই। অথচ সেই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরেই প্রকাশ্যে চলছে বেসরকারি ব্যবসা। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ দখল চোখে পড়লেও ব্লক স্বাস্থ্য দফতর থেকে জেলা স্বাস্থ্য দফতর—কোনও স্তরেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতাল চত্বরে খড়ির ব্যবসা চালাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা সুশান্ত মৈত্র ওরফে হাবুল। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁর দাবি, জমিটি ফাঁকা পড়ে ছিল বলেই ব্যবহার করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে লিখিত বা মৌখিক নিষেধ পেলেই তিনি দোকান তুলে নেবেন বলে জানান। এই ঘটনায় সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য দফতর।

জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ দাস জানান, সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে তাঁর নজরে বিষয়টি এসেছে। তিনি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে দ্রুত হাসপাতালের জমি পরিষ্কার করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।এদিকে প্রশ্ন উঠছে, এতদিন ধরে কীভাবে সরকারি হাসপাতালের জমিতে এভাবে অবৈধ দখল চলল? রোগী ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে প্রশাসনের স্থায়ী ও কড়া পদক্ষেপের দাবিই এখন জোরাল হচ্ছে।

Related Articles