গম্ভীর যুগ: সাফল্য, সমালোচনা আর নতুন টিম ইন্ডিয়ার গল্প
আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের পরামর্শদাতা হিসাবে গম্ভীর দারুণ সাফল্য পান।
Truth Of Bengal: ভারতীয় ক্রিকেটে গৌতম গম্ভীরের নাম সবসময়ই এক ধরনের দৃঢ়তা এবং লড়াকু মানসিকতার প্রতীক। একজন ক্রিকেটার হিসাবে যেমন তিনি বড় মঞ্চে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছেন, তেমনি কোচ হিসাবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। ক্রিকেটার হিসাবে গৌতির ঝুলিতে রয়েছে দু’টি বিশ্বকাপ খেতাব-২০০৭ টি-২০ ও ২০১১ ওডিআই বিশ্বকাপ। কোচ হিসাবেও তাঁর ক্যাবিনেটে এবার ঢুকে পড়ল দু’টি আইসিসি ট্রফি-২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও ২০২৬ টি-২০ ওয়ার্ল্ড কাপ। তবে তার এই যাত্রা মোটেও মসৃণ নয়—সাফল্যের পাশাপাশি তাঁকে মোকাবিলা করতে হয়েছে কঠিন সমালোচনাও।
আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের পরামর্শদাতা হিসাবে গম্ভীর দারুণ সাফল্য পান। সেই সাফল্যের ভিত্তিতেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তাঁকে জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব দেয়। টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের পর তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং শুরু থেকেই নিজের কড়া নীতির মাধ্যমে স্পষ্ট করে দেন যে তিনি দলকে নতুন পথে এগিয়ে নিতে চান এবং দলে কোনও তারকা প্রথা থাকবে না।
গম্ভীরের কোচিং স্টাইল আগের কোচদের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। এই কারণেই প্রথম থেকেই তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিশেষ করে দলের ভেতরে কিছু নির্বাচনী সিদ্ধান্ত এবং নেতৃত্বের পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনা হয়। হার্দিক পান্ডিয়ার বদলে সূর্যকুমার যাদবকে টি-২০ দলের অধিনায়ক করা ছিল এমনই একটি চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই জুটি সফল প্রমাণিত হয়।
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে গম্ভীরের অধীনে ভারত দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছে। এশিয়া কাপ, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ এবং টি-২০ বিশ্বকাপ—সব ক্ষেত্রেই দল শক্তিশালী উপস্থিতি দেখিয়েছে। বিশেষ করে সমালোচনার মধ্যেই ভারত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতে বড় বার্তা দেয়। রোহিত শর্মার নেতৃত্বে এবং গম্ভীরের কৌশলে ভারত পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে আধিপত্য দেখিয়ে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে খেতাব জেতে। কোচ হিসাবে এটি ছিল গম্ভীরের প্রথম আইসিসি ট্রফি।
তবে টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের পারফরম্যান্স নিয়ে এখনও উদ্বেগ রয়েছে। গম্ভীরের অধীনে শুরুটা ভাল হলেও পরে দল ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে সিরিজ হার এবং অস্ট্রেলিয়ায় বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি হাতছাড়া হওয়া বড় ধাক্কা ছিল। এমনকি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালেও উঠতে পারেনি ভারত।
তবুও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্য গম্ভীরকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। গত এক বছরে ভারত এশিয়া কাপ এবং টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি একটি আইসিসি ট্রফিও ঘরে তুলেছে। ফলে সমালোচনার মাঝেও গম্ভীরের কোচিং অধ্যায়কে পুরোপুরি ব্যর্থ বলা যায় না।
একসময় ২০০৭ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ ও ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন গম্ভীর। এখন কোচ হিসাবে তিনি আবারও ভারতকে আন্তর্জাতিক খেতাব জিতিয়ে চলেছেন। তাই বলা যায়, খেলোয়াড় থেকে কোচ—দুই ভূমিকাতেই গম্ভীর ভারতীয় ক্রিকেটে নিজের ছাপ রেখে যাচ্ছেন। এখন তাঁর এবং দলের নজর আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপের দিকে।






