দুর্গাপুরের ডাঃ বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি মিট
MAKAUT-এর প্রাক্তন উপাচার্য এবং বর্তমানে ডাঃ বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (সোসাইটি)-এর মুখ্য উপদেষ্টা ডঃ সৈকত মৈত্র ৩ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির ইতিহাস, মূলনীতি এবং পরিবেশগত সুফলগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
Truth Of Bengal: রাহুল চট্টোপাধ্যায়: ডাঃ বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ‘সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অফ অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং’-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো তৃতীয় ‘একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি মিট ২০২৬’।
ভারত সরকারের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অফ অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং’ (C-DAC), দুর্গাপুরের ডাঃ বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের (BCREC) সহযোগিতায় BCREC ক্যাম্পাসের ‘অ্যালবার্ট আইনস্টাইন হলে’ তৃতীয় ‘একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি মিট ২০২৬’ (শিক্ষা ও শিল্প জগতের মিলনমেলা) সফলভাবে আয়োজন করে।
ওই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষা জগত (Academia) এবং শিল্প জগতের (Industry) মধ্যে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া বৃদ্ধি করা এবং শিক্ষাগত গবেষণা ও শিল্প ক্ষেত্রের চাহিদার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা। সম্মেলনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘৩ডি প্রিন্টিং’ (3D Printing) এবং ‘অ্যাডিটিভ ম্যানুফ্যাকচারিং প্রযুক্তি’; বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির বৈপ্লবিক রূপান্তরের সম্ভাবনাকে এখানে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।
বিশিষ্ট অতিথিরা চারাগাছে জল প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন BCREC-এর অধ্যক্ষ ডঃ সঞ্জয় এস. পাওয়ার। C-DAC কলকাতার ‘চিফ ইনভেস্টিগেটর’ (প্রকল্প), অসিত কুমার সিং তাঁর বক্তব্যে শিক্ষা ও শিল্প জগতের পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘শিল্প জগত বাজারের চাহিদা সম্পর্কে সম্যক অবগত থাকে, আর সেই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব শিক্ষাগত গবেষণার মাধ্যমেই। তাই এই দুই ক্ষেত্রের পারস্পরিক সহযোগিতা অপরিহার্য।’
এন আই টি দুর্গাপুরের প্রাক্তন অধিকর্তা তথা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজা রামান্না প্রফেসার এবং BCREC-এর উপদেষ্টা ডঃ অনুপম বসু উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ৩ডি প্রিন্টিংয়ের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন এবং শিক্ষার্থীদের শিল্প জগতের উপযোগী দক্ষতায় প্রস্তুত করার লক্ষ্যে ‘ফিনিশিং স্কুল প্রোগ্রাম’-এর গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
MAKAUT-এর প্রাক্তন উপাচার্য এবং বর্তমানে ডাঃ বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (সোসাইটি)-এর মুখ্য উপদেষ্টা ডঃ সৈকত মৈত্র ৩ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির ইতিহাস, মূলনীতি এবং পরিবেশগত সুফলগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
দুর্গাপুরের ‘দ্য মিশন হসপিটাল’ এবং ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অফ কার্ডিওভাসকুলার-থোরাসিক সার্জনস’-এর সভাপতি ও ডাঃ বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সোসাইটির সভাপতি ডাঃ সত্যজিৎ বসু চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ৩ডি প্রিন্টিংয়ের বিশাল সম্ভাবনার দিকটি বিশেষভাবে তুলে ধরেন। মাকাউট (MAKAUT)-এর স্কুল অফ ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অধিকর্তা এবং সি-ড্যাক (C-DAC) কলকাতার প্রাক্তন অধিকর্তা ড. নবারুণ ভট্টাচার্য শিক্ষাজগৎ ও শিল্পের (industry) মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং শিক্ষাগত সহযোগিতার বিষয়ে শিল্পের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান।
ওই অনুষ্ঠানে ডাঃ বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক তরুণ ভট্টাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ জার্নাইল সিং উপস্থিত ছিলেন। ওই সম্মেলনে ৩ডি প্রিন্টিং (3D Printing) এবং অ্যাডিটিভ ম্যানুফ্যাকচারিং-এর চারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
‘৩ডি প্রিন্টিং-এর মাধ্যমে উৎপাদন ব্যবস্থার রূপান্তর: শিক্ষাজগৎ ও শিল্পের ভূমিকা’—শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ‘অঙ্কুরণ’-এর অধিকর্তা ও আইআইটি খড়গপুরের প্রাক্তনী প্রশান্ত কুমার,SAIL-IISCO-এর টাউন সার্ভিসের বরিষ্ঠ ব্যবস্থাপক বিকাশ কুমার, দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালের মুখ্য চিকিৎসা আধিকারিক ডাঃ পার্থ পাল।
ওই অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন ড.নবারুণ ভট্টাচার্য, যেখানে উৎপাদন শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বিচিত্র ও বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়।
বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং ও পলিটেকনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প সংস্থার প্রতিনিধিরা ওই অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। উপস্থিত সকলেই দুর্গাপুরের ডাঃ বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অবস্থিত সি-ড্যাক (C-DAC)-এর ৩ডি প্রিন্টিং ও অ্যাডিটিভ ম্যানুফ্যাকচারিং প্রযুক্তি গবেষণাগারটি পরিদর্শন করেন।






