মধ্যরাতে আফগানিস্তানে পাক সেনার এয়ার স্ট্রাইক! কাবুল-কন্দহরের তেলের ডিপোয় আছড়ে পড়ল মিসাইল
এই হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
Truth of Bengal: শুক্রবার ভোরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল আফগান-পাক সীমান্ত। রাজধানী কাবুলসহ আফগানিস্তানের একাধিক শহরে প্রবল বিমান হানা চালাল পাকিস্তানের বায়ুসেনা। কন্দহর বিমানবন্দরের নিকটবর্তী একটি তেলের ডিপোতেও বোমাবর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কাবুল পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জাদরান এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, কাবুল ছাড়াও কন্দহর, পক্তিয়া এবং পক্তিকাতেও লাগাতার আক্রমণ চালিয়েছে পাক বাহিনী। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, এই হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
তালিবান কর্তৃপক্ষের দাবি, পাকিস্তান বেছে বেছে সাধারণ মানুষের জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিকে লক্ষ্য করে বোমা ফেলছে। যদিও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট হামলা নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে অতীতে পাকিস্তান দাবি করেছে যে, তারা আফগানিস্তানের মাটিতে সাধারণ নাগরিক নয় বরং জঙ্গিশিবিরগুলিকে লক্ষ্য করেই অভিযান চালায়। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানে আশ্রিত জঙ্গিরা ক্রমাগত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে অশান্তি ছড়াচ্ছে, তাই দেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই তারা এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে। এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাল্টা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে আফগানিস্তান। তালিবান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবিলম্বে এই হামলা বন্ধ না হলে পাকিস্তানকে বড়সড় প্রত্যাঘাতের সম্মুখীন হতে হবে। বল্খ প্রদেশের গভর্নরের মুখপাত্র হাজি জাহিদ সরাসরি হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন, এবার ইসলামাবাদ বা করাচির মতো পাকিস্তানের বড় শহরগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ থেকেই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এর আগে পক্তিকাতে পাকিস্তানের জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানের বোমাবর্ষণে বহু সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে দাবি করেছিল তালিবান। তার প্রতিক্রিয়ায় আফগান যোদ্ধারা সীমান্ত সংলগ্ন একাধিক পাক সেনাচৌকি ধ্বংস করার দাবি করে। পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক অস্থিরতা শুরু হওয়ার আগে থেকেই আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত লঙ্ঘন এবং আকাশপথে হানা নিয়ে দীর্ঘদিনের সংঘাত বজায় রয়েছে। শুক্রবারের এই নতুন দফার সংঘর্ষ সেই উত্তেজনাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।




