চিপস-বিস্কুট কি প্যাকেটজাত বিষ! হার্ভার্ডের গবেষণায় শিউরে ওঠার মতো তথ্য!
এই কারণেই একটি বিস্কুট বা এক প্যাকেট চিপস খেয়ে মন ভরে না, বারবার তা খেতে ইচ্ছে করে
Truth of Bengal: চিপস, বিস্কুট, কোল্ড ড্রিঙ্কস কিংবা ইনস্ট্যান্ট নুডলস—আপনার রোজকার তালিকায় থাকা এই প্যাকেটজাত খাবারগুলো কি কেবলই স্বাদ মেটাচ্ছে, নাকি তিলে তিলে শরীরে বিষ ঢালছে? হার্ভার্ড, মিশিগান এবং ডিউক ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক একটি গবেষণা খাদ্য জগতকে এক বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। গবেষণার দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট—আল্ট্রা প্রসেসড ফুড বা ইউপিএফ-কে কেবল খাবার হিসেবে নয়, বরং সিগারেটের মতো ক্ষতিকারক নেশাদ্রব্য হিসেবে গণ্য করা উচিত। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং সিগারেটের মধ্যে একটি ভয়ঙ্কর মিল রয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই পণ্যগুলোকে এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে মানুষ বারবার তা খাওয়ার তাগিদ অনুভব করে। উৎপাদনকারী সংস্থাগুলো চিনি, নুন এবং ফ্যাটের এমন একটি নির্দিষ্ট অনুপাত ব্যবহার করে যা সরাসরি মানুষের মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেমকে প্রভাবিত করে। এই কারণেই একটি বিস্কুট বা এক প্যাকেট চিপস খেয়ে মন ভরে না, বারবার তা খেতে ইচ্ছে করে।
মিশিগান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অ্যাশলে গিয়ারহার্ডের মতে, অনেকে জানেন এই খাবারগুলো ক্ষতিকর, তবুও তারা নিজেদের আটকাতে পারেন না। নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের ভাষার সঙ্গে এই আসক্তির অদ্ভুত মিল পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই খাবারগুলো মস্তিষ্কের ঠিক সেই অংশগুলোতেই প্রভাব ফেলে যেখানে সিগারেট বা অ্যালকোহল ফেলে। মূলত কৃত্রিম ফ্লেভার, প্রিজারভেটিভ, ইমালসিফায়ার এবং রঞ্জক পদার্থ দিয়ে তৈরি এই আল্ট্রা প্রসেসড ফুডের লক্ষ্য পুষ্টি নয়, বরং দীর্ঘদিন টাটকা রাখা এবং বিক্রি বাড়ানো। বিজ্ঞাপন বা মোড়কের গায়ে লেখা ‘লো ফ্যাট’ বা ‘সুগার ফ্রি’ ট্যাগগুলো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, এটি আসলে এক ধরনের ‘হেলথ ওয়াশিং’। ১৯৫০-এর দশকে সিগারেটকে যেভাবে নিরাপদ হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল, বর্তমানের এই হেলথ ট্যাগগুলো অনেকটা তেমনই বিভ্রান্তিকর। সাধারণ মানুষ এই ফাঁদে পড়ে অস্বাস্থ্যকর খাবারকেই স্বাস্থ্যকর মনে করে গ্রহণ করছেন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, দুর্বল নিয়ন্ত্রণ বিধি রয়েছে এমন দেশগুলোতে আল্ট্রা প্রসেসড ফুডের বাজার বাড়ছে। এর ফলে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং স্থূলতার মতো সমস্যাগুলো মহামারীর আকার নিতে পারে। গবেষণার শেষে একটি জোরালো প্রশ্ন উঠে এসেছে—যদি সিগারেটের প্যাকেটে বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ থাকতে পারে, তবে এই ক্ষতিকর প্যাকেটজাত খাবারের ক্ষেত্রে তা থাকবে না কেন? এই খাবারের ক্ষতিকর দিকগুলো উপেক্ষা করার সময় আর নেই।



