কাজের পাহাড়প্রমাণ চাপই কি কেড়ে নিল প্রাণ? সাকেত আদালতের বহুতল থেকে ঝাঁপ দিয়ে ‘আত্মঘাতী’ বিশেষভাবে সক্ষম কর্মী
৬০ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও হরিশ তাঁর কর্মঠ স্বভাবের জন্য সহকর্মীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন।
Truth Of Bengal: দিল্লির সাকেত আদালত চত্বরে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে গেল। কর্মক্ষেত্রে অত্যধিক কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে আদালত চত্বরেরই একটি উঁচু আবাসন থেকে ঝাঁপ দিয়ে জীবন বিসর্জন দিলেন বিশেষভাবে সক্ষম এক ক্লার্ক। মৃতের নাম হরিশ সিং। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে সাকেত আদালতে বিচারকদের নথিপত্র সংরক্ষণ ও অন্যান্য প্রশাসনিক কাজে সহায়তা করতেন। ৬০ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও হরিশ তাঁর কর্মঠ স্বভাবের জন্য সহকর্মীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিকভাবে কাজে যোগ দিয়েছিলেন হরিশ। কিন্তু দুপুরের দিকে হঠাৎই তিনি আদালত চত্বরের সবচেয়ে উঁচু ভবনটির ছাদে উঠে যান এবং সেখান থেকে নিচে ঝাঁপ দেন। এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে আদালত চত্বরে উপস্থিত আইনজীবী এবং বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাপ্লুত দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে হরিশের পকেট থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, নোটে হরিশ তাঁর এই চরম সিদ্ধান্তের জন্য সরাসরি কাউকে দায়ী করেননি। তবে সহকর্মীদের দাবি এবং পরিস্থিতির পারিপার্শ্বিক তথ্য অনুযায়ী, কাজের পাহাড়প্রমাণ চাপই তাঁর মৃত্যুর মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, হরিশ বেশ কিছুদিন ধরেই অতিরিক্ত কাজের বোঝা নিয়ে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ছিলেন এবং বারবার এই সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতনদের জানানোর চেষ্টাও করেছিলেন।
বর্তমানে দিল্লি পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটটি আসল কি না, তা যাচাই করতে ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। হরিশের আত্মহত্যার পিছনে নিছকই কাজের চাপ ছিল নাকি নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ বা মানসিক নির্যাতনের বিষয় রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে তাঁর সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। আদালত চত্বরে এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।






