কেষ্টর স্টাইলে এবার অর্জুন! উন্নয়নকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে গুড়-বাতাসা খাওয়ানোর দাবি বিজেপি নেতার
রাজীব কুমারকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি! ইভিএম হ্যাকিংয়ের আশঙ্কায় তোপ অর্জুনের
Truth of Bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের ফলাফলের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বাঙালির স্মৃতিতে ফিরে এল এক পুরনো নস্টালজিয়া। একসময় বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের মুখে শোনা যেত ‘চড়াম-চড়াম’, ‘গুড়-বাতাসা’র মতো শব্দ। সেই শব্দবন্ধ এখন একপ্রকার ‘কিংবদন্তি’ হয়ে উঠেছে। কিন্তু ছাব্বিশের ভোটের উত্তাপের মাঝে সেই পরিচিত সুরই শোনা গেল বিরোধী শিবিরের এক দাপুটে নেতার গলায়। নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংয়ের মুখে শোনা গেল সেই বিখ্যাত ‘গুড়-বাতাসা’র বুলি।
ভোটের ফলপ্রকাশের ঠিক আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে অর্জুন সিং বললেন, ‘‘জয়ের উদযাপনে আমরা উন্নয়নকে রাস্তায় এনে দাঁড় করিয়ে গুড়-বাতাসা খাওয়াব।” এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বলছেন, “রেজাল্টের পর রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে ডিজে বাজিয়ে ওদের শোনাব”, তখন পাল্টা হুঙ্কার দিয়ে অর্জুন সিং বলছেন, ‘‘ডিজে বাজবে না, ডিজের লাইন আমরা আগেই কেটে দিয়েছি।”
কিন্তু কেন অনুব্রতর ভাষা এখন অর্জুনের মুখে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একসময় তো অর্জুন সিং তৃণমূলেরই অন্দরে ছিলেন। তাই তৃণমূলের রাজনৈতিক শব্দভাণ্ডার তাঁর নখদর্পণে। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে বাক্যবাণ যখন সীমিত হয়ে আসে, তখন প্রতিপক্ষের অস্ত্রেই ঘায়েল করার কৌশল নেন নেতারা। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
তবে শুধু গুড়-বাতাসা নয়, গণনার আগের দিন নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও সরব হয়েছেন অর্জুন সিং। দমদম-বারাকপুর এলাকায় গণনা পর্যবেক্ষক হিসেবে প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমারকে নিয়োগ করা নিয়ে প্রবল আপত্তি তুলেছেন তিনি। অর্জুনের বিস্ফোরক অভিযোগ, ‘‘তাঁকে হ্যাকিং বিশেষজ্ঞ বলেই আনা হয়েছে, যাতে ইভিএম হ্যাক করা যায়।” গণনা নিয়ে এই জাতীয় অভিযোগ সামনে আসায় ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির।
ফলপ্রকাশের আগে অর্জুন সিংয়ের এই মন্তব্য ও অভিযোগ যে তৃণমূল-বিজেপি দুই শিবিরেরই উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য। তৃণমূলের নিজস্ব শৈলীতে তৃণমূলকেই বিঁধতে মরিয়া অর্জুন সিং। এখন দেখার, সোমবার এই ‘গুড়-বাতাসা’র মিষ্টি লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসে কোন দল। সব মিলিয়ে, ফলঘোষণার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বাংলা রাজনীতিতে পুরনো চরিত্র ও পুরনো সংলাপই যেন নতুন আবহে ফিরে এল।






