গণনার ২৪ ঘণ্টা আগে শুটআউট নোয়াপাড়ায়! বিজেপি নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে চলল গুলি
গভীর রাতে দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবে উত্তপ্ত ব্যারাকপুর, সিসিটিভি দেখে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ
Truth of Bengal: ভোট গণনার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে শনিবার গভীর রাতে ভয়াবহ শ্যুটআউটের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়ায়। গভীর রাতে বিজেপি নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীদের গুলি চালানোর ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। আক্রান্ত বিজেপি নেতা কুন্দন সিং বারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক। এই শ্যুটআউটের ঘটনা ঘিরে গণনার আগের রাতে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ এক নতুন মাত্রা পেল।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার গভীর রাতে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, একটি স্কুটারে করে দুই যুবক বিজেপি নেতা কুন্দন সিংয়ের বাড়ির সামনে আসে। ফুটেজে স্পষ্ট, স্কুটি থেকে নামার পর এক দুষ্কৃতী আগ্নেয়াস্ত্র বের করে সরাসরি কুন্দন সিংয়ের বাড়ির দিকে তাক করে গুলি চালায়। এরপর নিমেষের মধ্যে স্কুটি নিয়ে চম্পট দেয় তারা। আকাশ চৌধুরী ও আমন নামে দুই যুবকের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই সিসিটিভি ফুটেজের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে পরপর গুলির শব্দে রীতিমতো কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। কুন্দন সিংয়ের পরিবারের সদস্যদের দাবি, ভোট গণনার আগের রাতে এভাবে বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো আদতে ভয় দেখানোর কৌশল। গুলির শব্দ শুনেই প্রতিবেশীরা বাইরে বেরিয়ে আসেন, কিন্তু ততক্ষণে দুষ্কৃতীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
ঘটনার পরেই খবর দেওয়া হয় নোয়াপাড়া থানায়। পুলিশ পৌঁছে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং দ্রুত গ্রেফতারের জন্য তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে এই হামলার নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে ধন্দ কাটছে না তদন্তকারীদের। এটি কি ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসার অংশ, নাকি ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে এই শ্যুটআউট, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই ঘটনার জেরে এলাকায় বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গণনার মুখে দাঁড়িয়ে এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিরোধী দলের দাবি, এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টির জন্যই এই পরিকল্পিত হামলা। সব মিলিয়ে, ৪ মে ভোট গণনার ঠিক আগে নোয়াপাড়ার এই গুলি কাণ্ডকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। পুলিশ কি দ্রুত অভিযুক্তদের জালে তুলতে পারবে? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকা জুড়ে।






