বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে কেন মাইক্রো-অবজারভার? সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন মমতার
২৪ বছর পর মাত্র ৩ মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করার এত তাড়াহুড়ো কেন?
Truth Of Bengal: স্বাধীনোত্তর ভারতের ইতিহাসে কার্যত নজিরবিহীন ঘটনা। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে বাংলার সাধারণ নাগরিক ও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সওয়াল করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং ‘মাইক্রো-অবজারভার’ নিয়োগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “গণতন্ত্র রক্ষা করুন, বাংলায় বিচার মিলছে না।” দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পর শীর্ষ আদালত নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ জারি করেছে এবং সোমবারের মধ্যে রাজ্যকে প্রয়োজনীয় অফিসারদের তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের অনুমতি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষায় আদালতে এসেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে কয়েক লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষত বিবাহিত নারী, প্রসূতি এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম ‘মিসম্যাচ’ বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’-র দোহাই দিয়ে তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “অসমে এমন হচ্ছে না কেন? ২৪ বছর পর মাত্র ৩ মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করার এত তাড়াহুড়ো কেন? শুধু পশ্চিমবঙ্গকেই কি টার্গেট করা হচ্ছে?”
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো থেকে প্রায় ৮,৩০০ মাইক্রো-অবজারভার নিয়োগ করা হয়েছে, যাঁরা স্থানীয় ইআরও (ERO) বা বিএলও-দের (BLO) ক্ষমতা খর্ব করে নিজেদের ইচ্ছেমতো নাম কাটছেন। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী পাল্টা দাবি করেন, রাজ্য সরকার পর্যাপ্ত দ্বিতীয় শ্রেণির অফিসার না দেওয়ায় তাঁরা মাইক্রো-অবজারভার নিয়োগ করতে বাধ্য হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী এই অভিযোগ খণ্ডন করে জানান, রাজ্য সাধ্যমতো জনবল দিয়েছে এবং কমিশনের দাবি সঠিক নয়।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, আদালতের মূল লক্ষ্য হল কোনও নায্য নাগরিক যেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়েন। তিনি বলেন, “আধার কার্ডের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নামের বানান ভুল বা পদবি বদলের মতো কারণে নাম বাদ যাওয়া কাম্য নয়।” প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দেন, প্রতিটি নথিতে অনুমোদিত বিএলও-র স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া রাজ্য যদি পর্যাপ্ত অফিসার সরবরাহ করতে পারে, তবে মাইক্রো-অবজারভারদের আর প্রয়োজন হবে না বলেও ইঙ্গিত দেয় আদালত।
আগামী সোমবার মামলার পরবর্তী শুনানি। ওই দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারকে প্রয়োজনীয় গ্রুপ-বি অফিসারদের তালিকা জমা দিতে হবে। কমিশনকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা আরও সংবেদনশীল হয় এবং অপ্রয়োজনীয় নোটিশ জারি না করে।





