জেলায় জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো বৃষ্টি, কেমন থাকবে আজকের আবহাওয়া?
আগামী কয়েক দিন রাজ্যের একাধিক জেলায় দফায় দফায় ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ দুর্যোগের সম্ভাবনা রয়েছে।
Truth of Bengal: রাজ্যের আবহাওয়ায় আবারও অস্থিরতার ইঙ্গিত। বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্প এবং বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত—এই দুইয়ের যুগপৎ প্রভাবে বদলে যেতে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গের আকাশের মেজাজ। উত্তরবঙ্গ ইতিমধ্যেই টানা বৃষ্টিতে ভিজছে, আর এবার সেই বৃষ্টির প্রভাব পড়তে চলেছে দক্ষিণবঙ্গেও। আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী কয়েক দিন রাজ্যের একাধিক জেলায় দফায় দফায় ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ দুর্যোগের সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া মোটের উপর শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা। তবে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, ঝাড়গ্রাম এবং নদিয়া জেলায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আসল পরিবর্তন দেখা যেতে পারে রবিবার থেকেই। ১৫ ও ১৬ মার্চ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টির দাপট বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও নদিয়া জেলায় তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সেই সময় দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা। কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় শনিবার দিনভর মেঘলা আকাশ থাকলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা খুব কম। তবে রবিবার থেকে মহানগরের আবহাওয়াতেও বদল আসতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে শহর ও আশপাশের এলাকায়। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে বা গাছের নীচে আশ্রয় না নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে প্রশাসন।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই বেশ উদ্বেগজনক। গত বুধবার থেকেই শিলিগুড়ি-সহ বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টির জেরে নিচু জায়গায় জল জমার খবর মিলেছে। দার্জিলিং, কালিম্পঙ, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কিছু এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ১৬ মার্চ ফের ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং এই পরিস্থিতি অন্তত এক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ওপর থাকা ঘূর্ণাবর্ত কিছুটা দুর্বল হলেও নিম্ন বায়ুমণ্ডলে পশ্চিমা বায়ুর অক্ষরেখা এখনও সক্রিয় রয়েছে। তারই প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গেও টানা প্রায় সাত দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।






