রাজ্যের খবর

দেশ বিদেশে বট বৃক্ষ রোপণ করে জাতীয় পুরস্কার পেলেন বাংলার শিক্ষক

ভারত সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রকের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় সংহতি শিবিরে তাঁর এই উদ্যোগের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

Truth Of Bengal: রঞ্জন মাইতি, কাঁথি: পরিবেশ রক্ষায় নিয়েছেন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। আর সেই উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় সম্মান পেলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এক শিক্ষক। বটবৃক্ষ রোপণ ও সংরক্ষণের মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য জাতীয় স্তরে সম্মানিত হলেন কাঁথি-১ ব্লকের কুলাইপদিমা নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শ্যামল জানা। ‘থাকব নাকো বদ্ধ ঘরে, বৃক্ষরোপণ বিশ্বজুড়ে’—এই মন্ত্রকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবেশ রক্ষার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন তিনি। প্রতিটি দিনকে অরণ্য দিবস মনে করে ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫ হাজার বটবৃক্ষ রোপণ ও সংরক্ষণের লক্ষ্য নিয়েছেন শ্যামলবাবু। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলা, ভারতের ৩১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং প্রতিবেশী দেশ নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশে মোট ২২৪২টি বটবৃক্ষ রোপণ করেছেন তিনি।

ভারত সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রকের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় সংহতি শিবিরে তাঁর এই উদ্যোগের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।এনএসএস-এর আঞ্চলিক নির্দেশালয়, কলকাতার উদ্যোগে ১০ থেকে ১৬ মার্চ দক্ষিণ ২৪ পরগনার ‘দ্য নিওটিয়া ইউনিভার্সিটি’-তে আয়োজিত হয় ‘জাতীয় সংহতি শিবির ২০২৬’। এই শিবিরে দেশের ১৭টি রাজ্য থেকে আসা প্রায় ২১০ জন এনএসএস স্বেচ্ছাসেবক ও প্রোগ্রাম অফিসার অংশ নেন। তরুণদের মধ্যে ব্যক্তিত্বের বিকাশ, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান এবং জাতীয় সংহতি গড়ে তোলাই ছিল শিবিরের মূল উদ্দেশ্য।

১২ মার্চ আয়োজিত ‘দ্বিতীয় অনুপ্রেরণা সম্মেলন’-এ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামল জানা। সেখানে তাঁর দীর্ঘদিনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির জন্য তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে এনএসএস-এর পশ্চিমবঙ্গের ডিরেক্টর অগ্নিমিল দাস তাঁর হাতে স্মারক তুলে দেন। উল্লেখ্য, এর আগেও পরিবেশ রক্ষার কাজে অবদানের জন্য একাধিক সম্মান পেয়েছেন শ্যামলবাবু। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বায়ো ডাইভার্সিটি বোর্ড, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ এবং কাঁথি মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন। তাঁর এই উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে বলেই মত পরিবেশপ্রেমীদের।

 

Related Articles