বাংলার জন্য ১৮,৬৮০ কোটির উপহার! মেগা করিডোর থেকে অমৃত স্টেশন, একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর
সড়কপথের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী হলদিয়া ডক কমপ্লেক্সের ২ নম্বর বার্থের আধুনিকীকরণ এবং খিদিরপুর ডকের পুনরুজ্জীবন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
শনিবার পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ১৮,৬৮০ কোটি টাকারগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করলেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো ২৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের খড়্গপুর-মোরগ্রাম অর্থনৈতিক করিডোর। প্রায় ৭,৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে চলা এই রাস্তাটি চালু হলে খড়্গপুর ও উত্তরবঙ্গের দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার কমে যাবে এবং যাতায়াতের সময় প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সাশ্রয় হবে। করিডোরটি পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ জেলার ওপর দিয়ে যাবে, যা এনএইচ-১৬, এনএইচ-১৯ এবং এনএইচ-১২-এর মতো জাতীয় সড়কগুলিকে সংযুক্ত করে রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
সড়কপথের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী হলদিয়া ডক কমপ্লেক্সের ২ নম্বর বার্থের আধুনিকীকরণ এবং খিদিরপুর ডকের পুনরুজ্জীবন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এছাড়াও হলদিয়া ডকের ৫ নম্বর বার্থের যান্ত্রিকীকরণ এবং কলকাতার ঐতিহাসিক বাসকিউল ব্রিজের সংস্কারের শিলান্যাসও করেন তিনি। পর্যটনের প্রসারে কলকাতার ইনডেঞ্চার মেমোরিয়ালের কাছে একটি রিভার ক্রুজ টার্মিনাল এবং নদী পর্যটন কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরটি রাজ্যের শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রেলপথের ক্ষেত্রেও একাধিক বড় ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি পুরুলিয়া-আনন্দ বিহার টার্মিনাল এক্সপ্রেসের যাত্রা শুরু করেন এবং ‘অমৃত স্টেশন’ প্রকল্পের অধীনে কামাখ্যাগুড়ি, আনোড়া, তমলুক, হলদিয়া, বরাভূম এবং সিউড়ি—এই ছয়টি পুনর্নির্মিত স্টেশনের উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি বেলদা থেকে দান্তন পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ তৃতীয় লাইন এবং খলাইকুণ্ডা থেকে কনিমহুলি পর্যন্ত অটোমেটিক ব্লক সিগন্যালিং ব্যবস্থা দেশবাসীর উদ্দেশে উৎসর্গ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই প্রকল্পগুলি সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, যানজট মুক্তি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি আঞ্চলিক কর্মসংস্থানেও বড় ভূমিকা নেবে।






