সেনাবাহিনীর ধাঁচে তৃণমূলের নয়া রণকৌশল! আর্মি, নেভি ও এয়ারফোর্সের তত্ত্ব দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
দলের কর্মীদের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অভিষেক জানান, যাঁরা সরাসরি রাজপথে লড়াই করেন, মিছিলে হাঁটেন, দলের পতাকা বহন করেন কিংবা এলাকায় এলাকায় ব্যানার-ফেস্টুন লাগান, তাঁরা হলেন দলের ‘স্থলসেনা’ (আর্মি)।
Truth Of Bengal: আসন্ন বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতিতে এক অভিনব রণকৌশল সামনে আনলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার কলকাতার মিলন মেলায় আয়োজিত তৃণমূলের ‘ডিজিটাল যোদ্ধা’দের সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর তিন প্রধান শাখার সঙ্গে তুলনা করেন। অভিষেকের মতে, তৃণমূলের এই ‘ত্রিস্তরীয় বাহিনী’— স্থলসেনা, বায়ুসেনা এবং নৌসেনা— আসন্ন ভোটযুদ্ধে সমন্বিতভাবে ময়দানে নামবে।
দলের কর্মীদের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অভিষেক জানান, যাঁরা সরাসরি রাজপথে লড়াই করেন, মিছিলে হাঁটেন, দলের পতাকা বহন করেন কিংবা এলাকায় এলাকায় ব্যানার-ফেস্টুন লাগান, তাঁরা হলেন দলের ‘স্থলসেনা’ (আর্মি)। তৃণমূলের এই লড়াকু কর্মীবাহিনীই মূলত দলের গ্রাউন্ড ফোর্সের কাজ সামলান। অন্যদিকে, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে সমাজমাধ্যম বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে অভিষেক বলেন, যাঁরা ফেসবুক, এক্স (টুইটার) বা ইনস্টাগ্রামের মতো মঞ্চে দলের হয়ে সওয়াল করেন এবং প্রতিপক্ষের অপপ্রচারের মোকাবিলা করেন, তাঁরা হলেন দলের ‘বায়ুসেনা’ (এয়ারফোর্স)।
সবশেষে অভিষেক তৃণমূলের সংসদীয় ও আইনি লড়াইয়ের বিভাগটিকে ‘নৌসেনা’ (নেভি) হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জানান, যাঁরা বিধানসভা বা সংসদে মানুষের হয়ে সরব হন, সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করেন এবং প্রশাসনিক স্তরে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাঁরাই এই নৌবাহিনীর সদস্য। অভিষেক নিজেকে এই বাহিনীর মধ্যেই রেখেছেন, কারণ তিনি একজন সাংসদ। সেই যুক্তিতে তৃণমূল নেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দলের এই ‘নৌবাহিনী’রই প্রধান অংশ।
সম্মেলন থেকে ডিজিটাল যোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা নেভি, কর্মীরা আর্মি আর আপনারা এয়ারফোর্স। এই তিন বাহিনীর যৌথ আক্রমণেই আগামী দিনে বিরোধীদের কুপোকাত করবে তৃণমূল।” ভোটের ময়দানে প্রতিটি কর্মীর নির্দিষ্ট দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে দলের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের বার্তাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূলের এই ‘সেনাপতি’।
স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিমলা স্ট্রিটে বিবেকানন্দের বাড়িতে যান। স্বামীজির মূর্তিতে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন তিনি। সেখান থেকে বেরিয়ে সরাসরি ‘ডিজিটাল যোদ্ধা’দের সম্মেলনে যোগ দেন। এদিন তিনি স্বামীজির আদর্শের কথা পুনরায় স্মরণ করান সকলকে। ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমরা স্বামীজির হিন্দুত্বে বিশ্বাস করি।”






