আন্তর্জাতিক

একটি চাকরিতে আর ভরসা নেই! আয়ের বিকল্প পথ খুঁজছেন ভারতের ৫৫ শতাংশ কর্মী

আর্থিক স্বনির্ভরতার এই দৌড়ে ভারতের কর্মীরা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে।

Truth Of Bengal: ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা বিশ্বজুড়ে কর্মীদের প্রথাগত চাকরির গণ্ডি ছাড়িয়ে বিকল্প আয়ের পথে হাঁটতে বাধ্য করছে। নিজেদের আয় বাড়াতে বিপুল সংখ্যক মানুষ এখন দ্বিতীয় কোনো পেশা বা ‘সাইড হাসল’ (side hustle)-এর দিকে ঝুঁকছেন। র্যান্ডস্ট্যাড ওয়ার্কমনিটর ২০২৬-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন যে তাঁরা দ্বিতীয় কোনো কাজ বেছে নিয়েছেন, যা বর্তমান কর্মক্ষেত্রে আর্থিক চাপের প্রভাবকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। 

আর্থিক স্বনির্ভরতার এই দৌড়ে ভারতের কর্মীরা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে। র্যান্ডস্ট্যাড-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫৫ শতাংশ ভারতীয় কর্মী এখন একটি স্থায়ী চাকরির পরিবর্তে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করার বা ‘পোর্টফোলিও ক্যারিয়ার’ গড়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। একইভাবে ডেলয়েট গ্লোবাল জেন জি এবং মিলেনিয়াল সার্ভে জানাচ্ছে, ভারতের ৬২ শতাংশ জেন জি এবং ৫১ শতাংশ মিলেনিয়াল কর্মী কোনো না কোনো পার্শ্ববর্তী কাজের সাথে যুক্ত, যা বিশ্ব গড়ের চেয়ে অনেকটাই বেশি। তরুণ প্রজন্মের এই কর্মীরা মূলত ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন, কনসাল্টিং বা অনলাইন ব্যবসার মাধ্যমে বাড়তি উপার্জনের চেষ্টা করছেন।

ভারতে গিগ ইকোনমি বা চুক্তিভিত্তিক কাজের ক্ষেত্রও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-২৬-এর হিসাব অনুযায়ী, ভারতে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ গিগ অর্থনীতির সাথে যুক্ত, যা ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় ৫৫ শতাংশ বেশি। বর্তমানে ভারতের মোট শ্রমশক্তির ২ শতাংশ এই গিগ ওয়ার্কাররা দখল করে রেখেছেন এবং আগামী দশকে এই সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইপসোস ইন্ডিয়ার গবেষণা বলছে, প্রায় ৮৯ শতাংশ গিগ কর্মী কাজের নমনীয়তা এবং পছন্দমতো সময়ে কাজ করার সুযোগের কারণেই এই পেশার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্শ্ববর্তী কাজের এই জনপ্রিয়তা আসলে ক্যারিয়ার নিয়ে মানুষের চিন্তাভাবনার এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত। মানুষ এখন কেবল একটি নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভরশীল না থেকে একাধিক আয়ের উৎস বা ‘পোর্টফোলিও ক্যারিয়ার’ তৈরিকে দীর্ঘমেয়াদী কৌশল হিসেবে দেখছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২৭ শতাংশ পূর্ণকালীন কর্মী তাঁদের মূল চাকরির পাশাপাশি একটি সাইড বিজনেস বা কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী। ভারতের তরুণ ও ডিজিটালমনস্ক প্রজন্মের কাছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং ফ্রিল্যান্সিং আয়ের পথকে আগের চেয়ে অনেক সহজ করে দিয়েছে। বাজারের এই বিবর্তন এবং অর্থনৈতিক চাপ বজায় থাকলে আগামী দিনে ভারতের কর্মক্ষেত্রে একাধিক পেশার মেলবন্ধনই হয়তো সাধারণ নিয়মে পরিণত হবে।

Related Articles