দেশ

গ্যাসের আকালে ধুঁকছে দেশ! হোটেল-রেস্তোরাঁয় হাহাকার

বেঙ্গালুরু হোটেল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আগামীকাল থেকে তারা রেস্তোরাঁ সচল রাখতে পারবে না।

Truth Of Bengal: পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে রান্নার গ্যাসের জোগানে বড়সড় সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকার বর্তমানে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের তুলনায় গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস সরবরাহকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং ব্যবসার জন্য ব্যবহৃত ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের জোগান অনেক রাজ্যে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই তীব্র সংকটের কারণে অনেক ব্যবসায়ী উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন এবং রান্নার গ্যাসের দামও একধাক্কায় অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৭ মার্চ থেকে গৃহস্থালির ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৬০ টাকা এবং ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম প্রায় ১১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

এই জোগান সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতের রাজ্যগুলোতে। বেঙ্গালুরু হোটেল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আগামীকাল থেকে তারা রেস্তোরাঁ সচল রাখতে পারবে না। মুম্বাই ও পুনেতেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে; অনেক রেস্তোরাঁ গ্যাসের অভাবে তাদের মেনু ছোট করে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, পুনেতে গ্যাসের উপাদানের অভাবে শ্মশানগুলোতে গ্যাস-চালিত চুল্লিও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক জায়গায় আতঙ্কিত হয়ে গ্রাহকরা অতিরিক্ত গ্যাস বুকিং করার চেষ্টা করছেন। এর ফলে সাধারণ রিফিল পেতে আগে যেখানে দুদিন সময় লাগত, এখন তা বেড়ে আটদিন পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো রিফিল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে ২১ থেকে ২৫ দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।

সংকটের মূলে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালী’। এই পথ দিয়েই ভারতের সিংহভাগ এলপিজি আমদানি করা হয়। যুদ্ধের কারণে কাতার ও সৌদি আরব থেকে আসা জাহাজগুলো আটকে যাওয়ায় সাপ্তাহিক আমদানির পরিমাণ প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গিয়েছে। সরকার ও বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন। আশা করা হচ্ছে, রাশিয়া বা আলজেরিয়ার মতো দেশ থেকে অতিরিক্ত জোগান নিশ্চিত করা গেলে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জমানো তেলের মজুত সরবরাহ করা হলে আগামী কয়েক সপ্তাহে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। আপাতত গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের ঘাটতি রুখতে সরকার স