দেশ

যুদ্ধের আঁচ এবার রান্নাঘরে! ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের জেরে দেশে দুধের আকাল?

প্লাস্টিক প্যাকেটের এই আকাল না মিটলে আগামী ১০ দিনের মধ্যে দুগ্ধ শিল্প এক বড়সড় সংকটের মুখে পড়বে।

Truth of Bengal: পশ্চিম এশিয়ার উত্তাল পরিস্থিতির আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে। ইজরায়েল-ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের সরবরাহে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে দেশের দুগ্ধ শিল্পে। মহারাষ্ট্রের একাধিক দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই এই সংকটের কারণে দুধ প্রক্রিয়াকরণ এবং পাস্তুরাইজেশন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দুগ্ধ ব্যবসায়ীদের মতে, জ্বালানি সংকটের জেরে দুধের প্যাকেট এবং কার্টন তৈরির কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে বাজারে প্যাকিং সামগ্রীর তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। গোভর্ধন ডেইরির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি দেবেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, বর্তমানে দুধের প্যাকেট এবং কার্টন পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি জানান, এই প্যাকেজিং সামগ্রী তৈরির কারখানাগুলো পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছে না। তাঁর আশঙ্কা, বর্তমান মজুত দিয়ে বড়জোর আগামী ১০ দিন কাজ চালানো সম্ভব। একই সুর শোনা গিয়েছে মুম্বইয়ের চেম্বুরের সুরেশ ডেইরির ম্যানেজার শারিব শেখের গলায়। তিনি জানিয়েছেন, প্লাস্টিক প্যাকেটের এই আকাল না মিটলে আগামী ১০ দিনের মধ্যে দুগ্ধ শিল্প এক বড়সড় সংকটের মুখে পড়বে।

এলপিজি সংকটের প্রভাবে শুধু উৎপাদন নয়, দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদাতেও টান পড়েছে। রান্নার গ্যাসের অভাবে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং পাইকারি গ্রাহকরা তাদের মেনু কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে দুধের চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বম্বে মিল্ক প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিকে সিং জানান, সম্প্রতি মোষের দুধের তিনটি বড় অর্ডার বাতিল হয়েছে। এর ফলে মজুত রাখা দুধ কম দামে বাজারে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। ছোট ডেইরিগুলোর ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও প্রকট, কারণ তাদের দুধ দীর্ঘক্ষণ সংরক্ষণ করে রাখার মতো পর্যাপ্ত পরিকাঠামো নেই। তবে এই সংকটের আবহেও বড় কিছু সমবায় সংস্থা কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছে। আমূলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জায়েন মেহতা জানিয়েছেন, তাঁরা প্রতিদিন প্রায় ৩৫ মিলিয়ন লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণ করেন। তাঁদের মোট প্রয়োজনীয় গ্যাসের প্রায় ৮০ শতাংশ বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে। বাকি চাহিদা মেটানো হচ্ছে ডিজেল ও অন্যান্য বিকল্প জ্বালানি দিয়ে। নিজস্ব কারখানায় দুধ ও দইয়ের প্যাকেট তৈরি হওয়ায় আমূলের ক্ষেত্রে প্যাকেজিং সামগ্রীর ঘাটতি এখনও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়নি।

মাদার ডেইরির মতো বড় সংস্থাগুলোও পিনএনজি এবং অন্যান্য জ্বালানি ব্যবহার করার ফলে বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিতে পারছে। তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি দুগ্ধ ব্যবসায়ীরা যেভাবে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তাতে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সাধারণ মানুষের কাছে প্যাকেটজাত দুধ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।