সম্পাদকীয়

Political Discipline: একুশের সমাবেশে সবাই দেখল তৃণমূলের শৃঙ্খলাবোধ

The 21st July Shahid Divas rally by TMC set a benchmark for political discipline in Kolkata.

ইন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় (বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক): এবারের ২১ জুলাই অন্যরকম ভাবে উপলব্ধি করল মানুষ। যা দেখল সারা দেশ। কিন্তু শহিদ স্মরণে এই সমাবেশ দেখে বিজেপি, বাম, কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলি কি কোনও শিক্ষা গ্রহণ করল (Political Discipline)? এই যে লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় মিছিলে হাঁটলেন, জমায়েত হল ধর্মতলায়, তাতে কি কোনও অফিস যাত্রী বা পথচলতি মানুষ কোনও দূর্ভোগে পড়লেন? কারও কোনও অভিযোগ ছিল? অতি বড় নিন্দুকেরও উত্তর না। কিন্তু বামেদের তো ছিল। আচমকা তাঁদের নিত্যযাত্রী, সাধারণ মানুষের জন্য হঠাৎ দরদ উথলে উঠল। তাই তো বাম আইনজীবী সেল হাইকোর্টে মামলা ঠুকল। মহামান্য হাইকোর্ট শহিদ সমাবেশের ক্ষেত্রে শর্ত দেয়। সমাবেশ বাতিলের নয়। যদিও বা বামেদের লক্ষ্য ছিল ওই সমাবেশ বন্ধ করার। এই রকমই আবেদন ছিল তাদের।

[আরও পড়ুন: Bengal Weather: সক্রিয় মৌসুমী অক্ষরেখা, রাজ্যের একাধিক জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস]

সমাবেশ হল এবং তা সফল সব দিক থেকেই। আদালতের নির্দেশে পুলিশের তৎপরতা ও তৃণমূল কর্মীদের শৃঙ্খলাবোধ (Political Discipline) এবারের শহিদ দিবস এক অনন্য রূপ পেল। যা দেখে মহামান্য বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ আপ্লুত। রাজ্য পুলিশ যেভাবে তৎপরতার সঙ্গে মিছিল-মিটিং নিয়ন্ত্রণ করল তা নজিরবিহীন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পারেন। এত জমায়েতের মধ্যেও বিশৃঙ্খল হননি কর্মীরা। সু-শৃঙ্খলভাবে সমাবেশ শেষ করে বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু যাঁরা মামলা করেছিলেন, সেই বামেরা তাঁরা ৩৪ বছর ধরে বনধ কালচারে অভ্যস্ত ছিলেন। বছরে দুটো করে বনধ, মানে ২টি ছুটি আর শ্রমদিবস নষ্ট। তখন তো মানুষের কথা ভাবেননি বরং বনধ সফল করার লক্ষ্যে কাঁচা বাঁশের লাঠি নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন।

রাস্তায় ট্রাম, বাস ভাঙচুর করতেন। কত মানুষ আহত হতো। অ্যাম্বুল্যান্স পর্যন্ত রেহাই পেত না। ব্রিগেডে বামেদের সমাবেশ হলে রাজ্যের সব বাস তুলে নেওয়া হতো। অনেক ক্ষেত্রে চলমান বাসে ঝান্ডা লাগিয়ে একপ্রকার জোরপূর্বক সমাবেশে নিয়ে যাওয়া হতো। ভয়ে মাঝ রাস্তাতেই বাসের যাত্রীরা নেমে পড়তেন। কেউ প্রতিবাদ করলে কপালে কিল-চড় জুটতো। এই ক’বছরে কি মানুষ ভুলে গিয়েছে সেইসব দিনের কথা? তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত জ্যোতি বসু বা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তখন যখন বেরোতেন, রাস্তার ধার দিয়ে কারও হাঁটার ক্ষমতা ছিল? কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করলে তো পুলিশের তেল মাখানো লাঠির বাড়ি পড়ত। এখন এঁরা জ্ঞান দিচ্ছেন, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা দেখাচ্ছেন, এখন তাঁরা সেটাই করছেন, সেটা বিজেপির স্বার্থে। ওঁরা আন্দোলন করে, ইস্যু তৈরি করে, ঝামেলা করে। কিন্তু মাঝখান থেকে সেখানে ঢুকে পড়ে বিজেপি। ওরা সেই তিমিরেই থাকে। ভোট আর বাড়ে না, নিজের নাক কেটে অপরের যাত্রাভঙ্গ করো! এই তো সেদিনও একটা বনধ ডাকল, যদিও এ রাজ্যে তার প্রভাব পড়েনি। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে বনধ কালচারটাই উঠে গিয়েছে। মানুষও এখন সচেতন। কথায় কথায় আর বাংলায় বনধ হয় না (Political Discipline)

আজকে বামেরা মামলা করল কিসের বিরুদ্ধে? ২১ জুলাই শহিদ সমাবেশ-এর বিরুদ্ধে। কেন? এর ফলে নাকি জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে শহর কলকাতায়। যুক্তি, সপ্তাহের প্রথম কাজের দিন নষ্ট হবে। অতএব আদালতে আবেদন এই সমাবেশ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হোক। আপনারা কেমন দরদি? সম্প্রতি বনধ কি তার নমুনা? যখন অতিবৃষ্টি ও ডিভিসি-র ছাড়া জলে একের পর এক জেলা, গ্রাম-শহর ভাসছে, মানুষ বাসস্থান হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে একমুঠো খাবারের জন্য হাহাকার করছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতির মোকাবিলায় পথে নেমেছেন। দফায় দফায় মিটিং চলছে। রাজ্য প্রশাসন তৎপর ত্রাণ দিতে।

সেদিন তো এই মানুষগুলোর কথা মনে হয়নি। আপনাদের মনে হয় না? আপনারা সরে আসতে পারেননি বনধ কালচার থেকে। আরজি করের ঘটনাকে সামনে রেখে আপনারা কিনা করলেন। রাস্তা অবরোধ করলেন, রাত জাগলেন, পিকনিক করলেন, ব্যান্ড বাজিয়ে নাচ-গান করলেন, তাতে কি জনগণের অসুবিধা হয়নি? আপনারা আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ী অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিল (Political Discipline)

যাঁর সন্তান গিয়েছে তাঁর গিয়েছে, আপনারা কি তাঁর পরিবারের দুঃখের ভার বহন করেছেন, না করা যায়? আপনারা এই ইস্যুকে সামনে রেখে রাজনীতি করে গিয়েছেন নিজেদের অস্তিত্বকে জানান দেওয়ার জন্য। একের পর এক ঘটনা আজ বাংলার মানুষের চোখ খুলে দিয়েছে। বাকিদের চরিত্র সম্পর্কেও মানুষ ওয়াকিবহাল। বাংলার মানুষের কাছে তাঁদের কৃতকর্মের কিছু নমুনা পেশ করলাম। তবে তৃণমূলের শহিদ দিবসের সমাবেশ নিয়ে বামেদের আদালতে মামলা শাপে বর হয়েছে। তৃণমূল কর্মীদের শৃঙ্খলাবোধ ও পুলিশি তৎপরতা মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছে নিন্দুকদের।

[আরও পড়ুন: BJP: পে-লোডারে করে মানুষ ছুড়ে ফেলে কেন্দ্র, বাঙালি বিদ্বেষকে কোথায় নিয়ে যেতে চায়?]

সভা সমাবেশ সব রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। সব দলের কিছু নির্দিষ্ট কর্মসূচি থাকে। সেই নির্দিষ্ট দিনে সেই কর্মসূচি পালন করে সেই দল। সেক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব আবেগ জড়িয়ে থাকে। বিশেষ জায়গার সঙ্গে ও সেই আবেগ আত্মিক হয়ে থাকে। সে তৃণমূলের হোক বা বামেদের। নির্দিষ্ট সেই জায়গাতেই সেই কর্মসূচি পালন করার অনেক অর্থবহ দিক থাকে। অবশ্যই রাজনৈতিক দলগুলিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে সেই কর্মসূচি পালন করার তাগিদ থাকা উচিত। এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয় যাতে সাধারণ মানুষ অসুবিধায় পড়ে। কথায় কথাই বন্ধ ডেকে সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলা ও সচেতন কোনও রাজনৈতিক দলের কাজ হওয়া উচিত নয় (Political Discipline)

বাংলার মানুষ সচেতন। চিরকাল বুদ্ধিমত্তায় দেশকে পথ দেখিয়েছে বাঙালি। বাঙালিকে যারা বোকা ভাববেন তারা মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন। নির্বাচনেও ভাগ্য নির্ধারণ করে এই জনতা জনার্দন। সমস্ত রাজনৈতিক দলকে সে বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন রয়েছে। তবেই মানুষের মনে বিশেষ জায়গা করে নিতে পারবে তারা। কথায় কথায় শুধু বিরোধিতা করার জন্য বিরোধিতা করলে মানুষ সব বুঝতে পারে।  বাংলার মানুষ তার জবাব দিতে দেরি করে না। এই শিক্ষাটা নেওয়া উচিত সব দলের। আর অবশ্যই শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা উচিত সব দলেরই। আবার পুলিশ প্রশাসনেরও উচিত আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সব ক্ষেত্রেই আরও সতর্ক থাকা (Political Discipline)

Related Articles