কলকাতারাজ্যের খবর

তিন রহস্য-মৃত্যু কলকাতাসহ চার জেলায়

Mysterious Murders

The Truth of Bengal: রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একদিনে বেশ কয়েকটি খুন ও রহস্য-মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। কলকাতায় হোটেলে যেমন একটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে, তেমনই উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ঘটেছেন একাধিক খুনের ঘটনা। কলকাতার কিড স্ট্রিটের একটি হোটেলে এক মহিলার মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে রহস্য দানা বাঁধে। বুধবার গভীর রাতে একটি হোটেল থেকে ওই মহিলার দেহ উদ্ধার করা হয়। মহিলার সঙ্গে একই ঘরে ছিলেন তাঁর মেয়েও। দু’জনকেই অচৈতন্য অবস্থায় ঘর থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। চিকিৎসকরা মহিলাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘর থেকে পাওয়া যায় একটি সুইসাইড নোট। খবর পাওয়ার পরেই দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাস্থলে হাজির হয় নিউ মার্কেট থানার পুলিশ। পুলিশের অনুমান, ঘুমের ওষুধ খেয়েই আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন দু’জনে। কলকাতার হরিদেবপুরের বাসিন্দা তাঁরা। পুলিশের হাতে যে সুইসাইড নোট এসেছে, তা থেকে প্রাথমিক ভাবে মানসিক অবসাদ এবং আর্থিক সমস্যার কথা উঠে আসছে। এই রহস্য-মৃত্যুর পেছনে আসল ঘটনা কী আছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অন্যদিকে, উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে শোওয়ার ঘর থেকে এক যুবতীর রক্তাক্ত ফাঁস লাগানো মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রায়গঞ্জের নট্টপাড়া এলাকার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। মৃত যুবতীর নাম সরস্বতী দাস। এই মৃত্যুকে ঘিরেই দানা বেঁধেছে রহস্য। ঘরের মধ্যে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ওই যুবতীর মৃতদেহ উদ্ধার হলেও যুবতীর পা বেয়ে রক্তপাত হওয়ায় ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করছেন না মৃতার দাদা সহ প্রতিবেশীরা। তাঁদের দাবি, খুন করা হয়েছে। ওই যুবতীর সঙ্গে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই যুবক পায়ই বাড়িতে আসত। বুধবার সন্ধ্যায় ওই যুবক এসেছিল। ফলে ওই যুবতীর বাড়ির লোক মনে করছেন, ওই যুবকের হাত আছে। এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি রায়গঞ্জ থানায়।

স্ত্রীকে গুলি করে খুনের অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ের দক্ষিণ ডেভিসাবাদ গ্রামে। নিহতের নাম সেলিমা লস্কর সরদার। অভিযুক্ত স্বামী বাবুরালি সরদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, বছর পাঁচেক আগে প্রেম করে বিয়ে করেন সেলিমা ও বাবুরালি। বিয়ের পর থেকেই পণের টাকার জন্য সেলিমাকে মারধর করত বাবুরালি। টাকা দিতে পারায় অত্যাচার করা হতো সেলিমাকে। অবশেষে স্ত্রীকে গুলি করে খুন করল স্বামী। মাথার পেছনে গুলি করে হয়েছে বলে পুলিশের দাবি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সেলিমার। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।

অন্যদিকে, এক যুবকের পচাগলা দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য মালদার কালিয়াচকে। ওই যুবকের নাম সেখ হাবিব খান। মোথাবাড়ি থানার মোথাবাড়ি শ্রীপুর খান পাড়ার ওই যুবক ভোটের ফলাফলের পরের দিন থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। গত ১৫ তারিখ মোথাবাড়ি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। তারপর গত ১৭ তারিখ একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে বাড়িতে। মুর্শিদাবাদে ধুলিয়ান থেকে মোবাইল পে নম্বর দিয়ে ফোন করে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। সেই ফোন নম্বর এবং ফোন পে নম্বর সহ মোবাইলের কল রেকর্ডিং তুলে দেওয়া হয় মোথাবাড়ি থানার পুলিশের হাতে। তারপর বৃহস্পতিবার সকালে ছাতারগাছি এলাকায় রেল লাইনের পাশ থেকে ওই যুবকের দেহ উদ্ধা করে পুলিশ। এই মৃত্যুর পেছনে কী কারণ আছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Related Articles