কলকাতা

যাদবপুরে ছাত্র সংঘর্ষের মাঝে আক্রান্ত শিক্ষক! চোখে ঘুষি, ভাঙল চশমার কাচ, রণক্ষেত্র ক্যাম্পাস

দুপক্ষের লড়াই থামাতে গিয়ে গুরুতর জখম হলেন দুই অধ্যাপক

Truth of Bengal: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আইসিসি (অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছাত্র সংঘর্ষের জেরে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটল। দুপক্ষের লড়াই থামাতে গিয়ে গুরুতর জখম হলেন দুই অধ্যাপক। শুক্রবার বিকেলে সায়েন্স ও আর্টস ফ্যাকাল্টির মোড়ে ঘটা এই নজিরবিহীন ঘটনায় রীতিমতো স্তম্ভিত শিক্ষামহল। আহত অধ্যাপকদের মধ্যে রাজ্যেশ্বর সিংহের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অপর অধ্যাপক ললিত মাধব প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছাড়া পেয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার বিকেলে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি প্রস্তুতি সভা শেষে সায়েন্স-আর্টস মোড়ের কাছে এসএফআই এবং ‘উই দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ (ডব্লিউটিআই) নামক ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, প্রথম বর্ষের এসএফআই সমর্থকদের প্রচার করা নিয়ে হুমকি দিচ্ছিলেন ডব্লিউটিআই-এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়ারা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অধ্যাপক রাজ্যেশ্বর সিংহ এবং ললিত মাধব মধ্যস্থতা করতে এগিয়ে যান। সেই সময়ই এক বহিরাগত পড়ুয়া হঠাৎ এসে রাজ্যেশ্বরবাবুকে লক্ষ্য করে ঘুষি চালায়। এতে তাঁর চশমার কাচ ভেঙে নাকে ও চোখে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ৬ জন পড়ুয়াও আহত হয়েছেন বলে খবর।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই নিগৃহীত অধ্যাপক রাজ্যেশ্বর সিংহ জানান, তিনি কেবল অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শান্ত করতে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, লড়াইতে জড়িয়ে থাকা ছাত্ররা তাঁকে মারেনি, বরং বাইরে থেকে আসা অন্য এক ছাত্র তাঁকে আক্রমণ করে। পরে অবশ্য বিবদমান ছাত্ররাই তাঁকে শুশ্রূষা করে হাসপাতালে নিয়ে যান। এসএফআই-এর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, দর্শন বিভাগের উজান এবং সমাজবিদ্যার ছাত্র রূপম সিকদার এই হামলার মূল হোতা। তবে ডব্লিউটিআই-এর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিনা কারণে এই অশান্তি কাম্য নয় এবং খুব শীঘ্রই সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসবে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন পার্থপ্রতিম বিশ্বাস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, গত এক দশকে যাদবপুরে শিক্ষক নিগ্রহের এমন ঘটনা ঘটেনি। এই ঘটনা ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।

Related Articles